‘নির্বাচনে অংশ নিতে দিন’, মিলন প্রধানকে অন্তর্বর্তী জামিন দিচ্ছে হাইকোর্ট
১২ অক্টোবর পর্যন্ত কড়া রক্ষাকবচ! নন্দীগ্রামের ময়দানে স্বস্তিতে প্রার্থী মিলন প্রধান
Truth of Bengal: হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে এক অভূতপূর্ব ও নাটকীয় আইনি মোড়! জমি আন্দোলন পর্বের ১৯ বছরের পুরনো ফৌজদারি মামলায় আচমকা গ্রেফতার হওয়া নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়ে নির্বাচনে লড়াইয়ের স্পষ্ট অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, “কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে অন্তর্বর্তী জামিন দিচ্ছি। তাঁকে গণতান্ত্রিক উপায়ে ভোটে লড়তে দিন। বাকিটা মামলার ভাগ্যের উপর নির্ভর করবে।” আদালতের এই রায়ে উপনির্বাচনের মুখে চরম স্বস্তি পেল কংগ্রেস শিবির।
ঘটনার সূত্রপাত ১৯ বছর আগে, ২০০৭ সালে নন্দীগ্রামের ঐতিহাসিক জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের সময়ে মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, বেআইনি জমায়েত ও লুটপাটের অভিযোগে নন্দীগ্রাম ও খেজুরি থানায় চারটি আলাদা মামলা রুজু হয়েছিল। সেই পুরনো মামলায় সম্প্রতি চণ্ডীপুর থেকে পুলিশ তাঁকে আচমকা গ্রেফতার করে জেলা হেফাজতে পাঠায়। মামলা চলাকালীন বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, ২০২১ সালে প্রার্থীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া সত্ত্বেও কেন দীর্ঘ পাঁচ বছর পর, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে উপনির্বাচনের ঠিক মুখেই তাঁকে গ্রেফতার করা হল?
উত্তরে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে এই রাজনৈতিক মামলাগুলি প্রত্যাহার করার প্রক্রিয়া শুরু হলেও বর্তমান সময়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে নতুন করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে আদালত প্রার্থীর মৌলিক অধিকার ও অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে পুলিশের এই পদক্ষেপ নিয়ে তীব্র উষ্মা প্রকাশ করে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল যে, আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো প্রকার কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না এবং অন্য কোনও মামলায় তাঁকে নতুন করে গ্রেফতার করা যাবে না। এরপর বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে জামিনের আবেদনের শুনানি হলে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, একজন বৈধ প্রার্থীকে ভোটের ময়দান থেকে দূরে রাখা অনুচিত। শুক্রবার বিকেল ৪টায় ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে, যেখানে অন্তর্বর্তী জামিনের শর্তাবলী চূড়ান্ত হতে পারে। নন্দীগ্রামের এই জটিল লড়াইয়ে কংগ্রেস প্রার্থীর আদালত থেকে জামিন পাওয়া নিঃসন্দেহে শাসক ও বিরোধী, উভয় শিবিরের নির্বাচনী অংককেই বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল।






