‘জোড়াফুল আমারই!’ ২৮ বছরের ঘাসফুল হাতছাড়া! কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মমতা
কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করেছেন তিনি
Truth of Bengal: ২৮ বছর ধরে যে দলের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পরিচয় প্রায় সমার্থক হয়ে উঠেছিল, সেই দলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়েই এবার লড়াই পৌঁছল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক আপাতত ফ্রিজ হওয়ার পর শুক্রবার রাতেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করেছেন তিনি। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে জরুরি শুনানির জন্য মামলাটি উল্লেখ করা হতে পারে। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অরূপ রায় নেতৃত্বাধীন দুই শিবিরই নিজেদের মূল দলের বৈধ দাবিদার বলে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানিয়েছিল। কমিশন জানিয়েছে, দুই পক্ষের দাবির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পুরনো নাম ও সংরক্ষিত প্রতীক কোনও পক্ষই ব্যবহার করতে পারবে না। বিষয়টির চূড়ান্ত বিচার হবে নির্বাচন প্রতীক আদেশ, ১৯৬৮-র ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী।
৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচন সামনে থাকায় ভোটের জন্য দুই শিবিরকে অস্থায়ীভাবে আলাদা পরিচয় দিয়েছে কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নাম হয়েছে ‘Mamata All India Trinamool Congress’, প্রতীক ‘Football Player’। অন্যদিকে অরূপ রায় নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির পেয়েছে ‘Democratic Trinamool Congress’ নাম এবং ‘Envelope’ বা খাম প্রতীক। এই সিদ্ধান্তের পর শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন মমতা। তিনি স্পষ্ট জানান, নিজের হাতে তৈরি দলের নাম ও জোড়াফুল প্রতীকের দাবি থেকে তিনি সরে আসছেন না এবং রাজনৈতিক ও আইনি—দুই পথেই লড়াই চালিয়ে যাবেন। কমিশনের পদক্ষেপকে তিনি গণতন্ত্রের জন্য ‘কালো দিন’ বলেও অভিহিত করেন। এটি অবশ্য মমতার রাজনৈতিক মূল্যায়ন; কমিশন তার অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানিয়েছে, দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর দাবির নিষ্পত্তি প্রয়োজন বলেই আপাতত নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের সাংগঠনিক বিভাজন ঘিরে। দলের একাংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব থেকে বেরিয়ে গিয়ে নিজেদের মূল তৃণমূলের বৈধ প্রতিনিধিত্বকারী বলে দাবি করে। এরপর সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ, দলের নাম এবং নির্বাচনী প্রতীকের অধিকার নিয়ে দুই পক্ষই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়। কমিশন সেই দাবিগুলি বিচার করেই আপাতত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু সেই ব্যবস্থাই মানতে নারাজ মমতা। কমিশনের সিদ্ধান্ত ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সর্বোচ্চ আদালতে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। ফলে তৃণমূলের ‘জোড়াফুল কার’—এই লড়াই এবার নির্বাচন কমিশনের দপ্তর পেরিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও পৌঁছে গেল।






