কলকাতা

রাজ্যে কার্যকর ‘গুন্ডাদমন’ আইন! সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করলেই সুদ-সহ গুণতে হবে ৩ গুণ জরিমানা

গত বিধানসভা অধিবেশনেই ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’ পাশ হয়েছিল

Truth of Bengal: সোমবার থেকেই রাজ্যে কার্যকর হল ‘গুন্ডাদমন’ আইনের একটি অংশ। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না। ক্ষয়ক্ষতির জন্য দোষীদের কাছ থেকে সুদ-সহ তিনগুণ ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে পুলিশের উপর হামলা হলে দ্রুত এবং কঠোর পদক্ষেপের বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। গত বিধানসভা অধিবেশনেই ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’ পাশ হয়েছিল। সাধারণভাবে এই আইনই ‘গুন্ডাদমন বিল’ নামে পরিচিত। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিধানসভায় পাশ হওয়ার পর বিলটি রাজ্যপালের কাছে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, রাজ্যপালের সম্মতির পরই আইনের একটি অংশ কার্যকর করার পথে এগিয়েছে রাজ্য।

সোমবার সন্ধ্যায় নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে সিএএ সার্টিফিকেট, অন্নপূর্ণা যোজনা-সহ একাধিক বিষয়ে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি ঘোষণা করেন, এদিন থেকেই গুন্ডাদমন আইনের নির্দিষ্ট অংশ কার্যকর হচ্ছে। শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা, আন্দোলন বা বিক্ষোভের নামে সরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ কিংবা ক্ষতি করা হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু মামলা নয়, ক্ষতির আর্থিক দায়ও সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তদেরই বহন করতে হবে। সরকারি সম্পত্তির যতটা ক্ষতি হয়েছে, তার তিনগুণ অর্থ সুদ-সহ আদায় করার সংস্থান রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। জুলাই মাসের শুরুতে বিধানসভায় এই বিল পাশ হওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, রাজ্যকে ‘গুন্ডামুক্ত’ করার লক্ষ্যেই আইনটি আনা হয়েছে। পাশাপাশি ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেনেন্স অফ পাবলিক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’-ও পাশ করা হয়।

এই দুই আইনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রশাসনকে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলে সরকারের দাবি। প্রতিরোধমূলক আটক থেকে শুরু করে অভিযুক্তদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো ব্যবস্থাকেও আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলের বিভিন্ন আন্দোলন ও অশান্তির প্রসঙ্গও এই আলোচনায় উঠে এসেছে। সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের সময় মুর্শিদাবাদের একাধিক জায়গায় ট্রেন, রেলস্টেশন এবং সরকারি বাসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছিল। হাওড়ার সাঁকরাইল-সহ বিভিন্ন এলাকাতেও সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগ সামনে আসে। পুলিশের উপর হামলার ঘটনাও একাধিকবার শিরোনামে এসেছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’-এর বার্তা দিয়ে এসেছে। সোমবার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী ফের স্পষ্ট করে দিলেন, আইনশৃঙ্খলা ভাঙার পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে এবার তার আর্থিক মূল্যও গুনতে হবে অভিযুক্তদের।

Related Articles