‘বন্দে মাতরম’- মহাত্মা গান্ধির বক্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে প্রচারে বিজেপি
সম্প্রতি কংগ্রেসের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে দলীয় কর্মসূচিতে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
Truth of Bengal: জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর মর্যাদা এবং ঐতিহ্য রক্ষায় কোনও আপস করা হবে না। শনিবার দিল্লিতে বিজেপির সর্বভারতীয় পদাধিকারীদের বৈঠকে এমনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে মহাত্মা গান্ধির বক্তব্য ও তাঁর ভাবনাকে দেশজুড়ে প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি।
সম্প্রতি কংগ্রেসের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে দলীয় কর্মসূচিতে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের যুক্তি, ১৯৩৭ সালে কলকাতায় কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে মহাত্মা গান্ধি, জওহরলাল নেহরু, সুভাষচন্দ্র বসু, সর্দার বল্লভভাই পটেল-সহ দলের একাধিক শীর্ষনেতা ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দু’টি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
এ বার সেই যুক্তির পাল্টা জবাব দিতে মহাত্মা গান্ধির বক্তব্যকেই হাতিয়ার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। পদ্মশিবিরের দাবি, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগিয়ে তুলতে ‘বন্দে মাতরম’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল—এমনটাই বলেছিলেন গান্ধি। তাঁর সেই বক্তব্য দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শনিবারের বৈঠকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে ‘বন্দে মাতরম’-এর পূর্ণাঙ্গ সংস্করণের মর্যাদা রক্ষার পক্ষে প্রস্তাবও গৃহীত হয়েছে। দলের বক্তব্য, রাজনৈতিক স্বার্থ বা ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য জাতীয় গানের মর্যাদা এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে কোনও ভাবেই আপস করা যাবে না।
কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তকে ‘দেশবিরোধী’ বলে আক্রমণ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণেই কংগ্রেস এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বার বিজেপির সর্বভারতীয় পদাধিকারীদের বৈঠকেও তোষণের রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সম্প্রতি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের নেতৃত্বে দলের নতুন টিম ঘোষণা করা হয়েছে। সেই নতুন টিম নিয়েই শনিবার দিল্লিতে বসে বৈঠক করেন বিজেপি নেতৃত্ব। বৈঠকে ‘বন্দে মাতরম’-এর মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মোট ১০ দফা প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।
বৈঠকের পর সমাজমাধ্যমে নিতিন নবীন লেখেন, ‘বন্দে মাতরম’ কোনও একটি রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়। এর সঙ্গে দেশের সম্মান এবং স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করা অসংখ্য দেশপ্রেমীর স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে।
তাঁর বক্তব্য, এক সময় ‘বন্দে মাতরম’ এমন শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়েছিল যে ব্রিটিশ শাসকরাও তা দমন করার চেষ্টা করেছিল। কারণ এই গান মানুষের মধ্যে প্রতিরোধের চেতনা জাগিয়ে তুলেছিল। ভারতীয়দের কাছে এটি স্বাধীনতা, আত্মত্যাগ এবং জাতীয় গর্বের প্রতীক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিজেপির সিদ্ধান্ত, ‘বন্দে মাতরম’-এর ইতিহাস, স্বাধীনতা আন্দোলনে তার ভূমিকা এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহ্য দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে বিশেষ প্রচার কর্মসূচি চালানো হবে। ফলে কংগ্রেসের সিদ্ধান্তকে ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক আগামী দিনে আরও তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নেয় কি না, সে দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।






