কলকাতা

“আমার ভোট ফেরত দিন!” দলবদলের প্রতিবাদে সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি ভোটারের

এবার উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে সরাসরি চিঠি লিখে নিজের ‘ভোট ফেরত’ চাইলেন তাঁরই কেন্দ্রের এক প্রবীণ ভোটার

Truth of Bengal: পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনপ্রতিনিধিদের দলবদল নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজ্যে। ভোটে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হওয়ার পর অন্য রাজনৈতিক শিবিরে যোগ দেওয়ার ঘটনা ঘিরে প্রশ্ন তুলছেন অনেক ভোটারই। এবার উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে সরাসরি চিঠি লিখে নিজের ‘ভোট ফেরত’ চাইলেন তাঁরই কেন্দ্রের এক প্রবীণ ভোটার। চিঠিটি লিখেছেন বৌবাজারের বাসিন্দা হেমন্ত দে। সেই চিঠি সমাজমাধ্যমে শেয়ার করেছেন তৃণমূলের আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতে হেমন্তবাবুর মূল প্রশ্ন, যে রাজনৈতিক অবস্থান দেখে একজন ভোটার কোনও প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, নির্বাচনের পর সেই জনপ্রতিনিধি যদি সম্পূর্ণ বিপরীত রাজনৈতিক শিবিরে চলে যান, তাহলে ভোটারের মতামতের মূল্য কোথায় থাকে?

দীর্ঘদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের টিকিটে একাধিকবার উত্তর কলকাতা থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। তবে রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলের একাধিক সাংসদের সঙ্গে তিনিও বিদ্রোহী অবস্থান নেন বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। বর্তমানে তিনি এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং পরে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও তাঁর বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছিল। এই দলবদল নিয়েই আপত্তি তুলেছেন হেমন্ত দে। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল প্রার্থী হিসেবেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোট দিয়েছিলেন তিনি। অথচ ভোটারদের নতুন করে মতামত নেওয়া ছাড়াই সাংসদ অন্য রাজনৈতিক শিবিরে চলে গিয়েছেন। এই ঘটনাকে ভোটারের রাজনৈতিক পছন্দ ও সিদ্ধান্তের প্রতি অবমাননা হিসেবেই দেখছেন তিনি।

চিঠিতে হেমন্তবাবু লিখেছেন, তিনি মধ্য কলকাতার বৌবাজার এলাকার বংশপরম্পরায় বাসিন্দা এবং প্রবীণ নাগরিক। তাঁর মতে, রাজ্যে পালাবদলের পর এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে বিধানসভা নির্বাচনের ফল এক রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করলেও, লোকসভায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের একাংশ অন্য শিবিরে চলে যাচ্ছেন। ফলে যে ভোটার একটি নির্দিষ্ট দল ও রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, তিনি কার্যত অন্য রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিনিধিকে দেখতে বাধ্য হচ্ছেন। সরাসরি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, “আমাদের সমর্থনে ভোটে জিতে আমাদের সম্মতি ব্যতিরেকে কীভাবে আপনি আপনার দলীয় আনুগত্য পরিবর্তন করেন?” হেমন্তবাবু স্পষ্ট করেছেন, তাঁর প্রশ্ন আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে নয়, বরং নৈতিকতার জায়গা থেকে। একজন জনপ্রতিনিধি কি ভোটারদের নতুন সম্মতি ছাড়া নিজের রাজনৈতিক আনুগত্য বদলাতে পারেন—এই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি।

চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, নাগরিকদের রাজনৈতিক পছন্দ, সমর্থন এবং সচেতন ভোটাধিকার নিয়ে কোনও জনপ্রতিনিধির এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। সেই কারণেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে প্রতীকী ভাবে নিজের ‘ভোট ফিরিয়ে দেওয়ার’ আবেদন জানিয়েছেন হেমন্ত দে। প্রসঙ্গত, এর আগেও উত্তর কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-বিরোধী পোস্টার ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। কোথাও কোথাও তাঁকে কটাক্ষ করে ‘চোর’ বা ‘বেইমান’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই আবহেই এবার সরাসরি এক ভোটারের ‘ভোট ফেরত’ চেয়ে লেখা চিঠি উত্তর কলকাতার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

Related Articles