তোলাবাজি কাণ্ডে সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট! জমা পড়ল ১,৭৩০ পাতার বিস্ফোরক নথি
একই সঙ্গে তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে আরও ১২ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত
Truth of Bengal: তোলাবাজির মামলায় বিধাননগরের প্রাক্তন পুর চেয়ারম্যান তথা নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়ক সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে ১,৭৩০ পাতার চার্জশিট পেশ করল পুলিশ। গ্রেপ্তারের ৫৭ দিনের মাথায় বুধবার বারাসত আদালতে এই চার্জশিট জমা দেয় বিধাননগর থানার পুলিশ। একই সঙ্গে তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে আরও ১২ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ১৭ আগস্ট তাঁকে ফের আদালতে তোলা হবে। এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আর এক অভিযুক্ত বিদ্যুৎ গঙ্গোপাধ্যায় অবশ্য অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, সব্যসাচীর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, অভিযোগকারীদের ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া এবং সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে বিপুল টাকা আদায়ের অভিযোগ চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ, বিধাননগর পুরসভার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের এক প্রবীণ ব্যক্তির সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে তাঁর কাছ থেকে ৪৮ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, টাকা সরাসরি সব্যসাচীর হাতে নেওয়া হয়নি। একজন রিকশাচালক এবং এক মুড়ি বিক্রেতার মাধ্যমে দু’দফায় ওই অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। মামলায় মোট ৪১ জনের সাক্ষ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। আদালতে সব্যসাচীর আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় জামিনের আবেদন জানিয়ে বলেন, তদন্ত শেষ হয়েছে এবং চার্জশিটও জমা পড়েছে। তাঁর মক্কেল দীর্ঘদিন ধরে হেফাজতে রয়েছেন। তাই উপযুক্ত শর্তে তাঁকে জামিন দেওয়া হোক। তবে জামিনের তীব্র বিরোধিতা করেন বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়। তিনি আদালতে জানান, চার্জশিট জমা পড়লেও এখনও বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়নি। অভিযোগকারীদের একাংশ আতঙ্কে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে অভিযুক্ত জামিন পেলে সাক্ষীদের প্রভাবিত করা কিংবা তদন্তের স্বাভাবিক গতিপথে বাধা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সব্যসাচীর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেন বিচারক। তাঁকে ১২ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ৮ জুন তোলাবাজির অভিযোগে সব্যসাচী দত্তকে গ্রেপ্তার করেছিল বিধাননগর থানার পুলিশ। পরে মামলায় দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ধারাও যুক্ত করা হয়। তদন্তের সময় তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। পাশাপাশি বিভিন্ন লকারে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে তদন্তকারী দল। তদন্তে পাওয়া নথি, আর্থিক লেনদেনের তথ্য, সাক্ষীদের বয়ান এবং উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর ভিত্তিতেই ১,৭৩০ পাতার এই চার্জশিট তৈরি করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। অন্য দিকে, সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও প্রাথমিকভাবে খোঁজখবর শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।






