নাড্ডার সঙ্গে একই টেবিলে সৌগত-শত্রুঘ্ন! একুশের হারের পর এবার কি তবে নতুন ভাঙনের মুখে তৃণমূল?
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার, সংসদের অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে আয়োজিত যক্ষ্মা সম্পর্কিত একটি বিশেষ বৈঠককে কেন্দ্র করে।
Truth of Bengal: বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খাওয়ার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙনের জল্পনা থামছেই না। ‘আসল তৃণমূল’ ঠিক কারা—সেই বিতর্ক যখন চরমে, তখনই দিল্লিতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার সঙ্গে দেখা গেল তৃণমূলের দুই প্রথম সারির সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা এবং সৌগত রায়কে। একসঙ্গে ছবি সামনে আসতেই সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহল। তবে কি এবার ঘাসফুল শিবিরের পথ ছেড়ে বিজেপির দিকে পা বাড়াচ্ছেন এই দুই প্রবীণ নেতা? যদিও এই জল্পনা প্রসঙ্গে এখনও পর্যন্ত দুই নেতার পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার, সংসদের অ্যানেক্স বিল্ডিংয়ে আয়োজিত যক্ষ্মা সম্পর্কিত একটি বিশেষ বৈঠককে কেন্দ্র করে। রাজ্যের সব সাংসদকেই এই কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং জুন মালিয়ার মতো তৃণমূলের একাধিক সাংসদ। সূত্রের খবর, ওই একই অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন শত্রুঘ্ন সিনহা এবং সৌগত রায়ও। সেখানেই নাড্ডার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলতে দেখা যায় শত্রুঘ্নকে। অন্যদিকে, একই টেবিলে বসে নৈশভোজ সারেন সৌগত রায়। তাঁদের মধ্যে ঠিক কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ১৯ জন সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে দিল্লিতে স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। নিজেদের ‘এনসিপিআই’ (NCPI) সাংসদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি এনডিএ-র শরিক হিসেবে লোকসভায় আসন বরাদ্দের আবেদনও জানিয়েছিলেন তাঁরা। এর ফলে লোকসভায় বিজেপি-র পর এনডিএ-র দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক দল হিসেবে উঠে আসে এনসিপিআই। এমনকি বাদল অধিবেশন শুরুর আগে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর আহ্বানে সর্বদল বৈঠকেও অংশ নিয়েছিল দলটি।
মঙ্গলবারেও ফের এনসিপিআই নেতৃত্বকে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ডাকা হয়। এর ফলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মনে প্রশ্ন উঠছিল—উত্তর-পূর্ব ভারতের নামমাত্র দলটি কি এনডিএ-র স্বতন্ত্র শরিক হয়েই থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে বিজেপির সঙ্গে মিশে যাবে? এর মাঝেই নাড্ডার সঙ্গে সৌগত রায় ও শত্রুঘ্ন সিনহার এই সমীকরণ বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনার আগুন উসকে দিল।






