সুবিচারের আশ্বাসের পর এবার নির্যাতিতার বাবাকে চাকরি মুখ্যমন্ত্রীর
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি কারাদপ্তরে চাকরি দেওয়া হয়েছে।
Truth of Bengal: বারুইপুরের সূর্যপুরের মর্মান্তিক ঘটনায় প্রথম থেকেই নির্যাতিতার পরিবারের পাশে থেকে সব রকম সাহায্য ও আইনি লড়াইয়ের আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার নিজের দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে অনন্য মানবিক নজির গড়লেন তিনি। নির্যাতিতার বাবাকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি কারাদপ্তরে (Correctional Services Department) চাকরি দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বড় অঙ্কের আর্থিক সাহায্যও। জানা গিয়েছে, মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ধাক্কা সামলে মানসিক অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হলেই কারাদপ্তরে নিজের নতুন কাজে যোগ দেবেন মৃতার বাবা।
প্রায় সপ্তাহ দুয়েক আগে বারুইপুরের সূর্যপূরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের নারকীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গোটা এলাকা। গণবিক্ষোভের জেরে এক ‘নির্দোষ’ যুবক ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলেরও মৃত্যু হয়। ঘটনার খবর পেয়েই সূর্যপুরে ছুটে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নিহত নাবালিকা এবং মৃত যুবক—উভয়ের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজে দেখা করে কথা বলেন, তাঁদের অভিযোগ শোনেন এবং পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ইতিমধ্যেই পুলিশ এই মামলায় চারজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় পুলিশের গুলিতে (এনকাউন্টারে) খতম হয়েছে মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল।
এদিকে নির্যাতিতার পরিবারের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে ইতিমধ্যেই সূর্যপুরে একটি পুলিশ ফাঁড়ি বা আউটপোস্টের উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি ওই নির্দিষ্ট এলাকাকে পুরোপুরি সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিতে মুড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। মৃত ছাত্রীর স্মৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে তাঁর স্কুলে একটি লাইব্রেরি নির্মাণের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে যে আবেদন করা হয়েছিল, তাতেও সবুজ সংকেত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, গত শনিবার ওই এলাকার নতুন পুলিশ ফাঁড়িটির উদ্বোধন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, “আমি পরিবারকে কথা দিয়ে এসেছি যে কাস্টডি ট্রায়াল এবং সাজা কার্যকরের (কনভিকশন এক্সিকিউশন) গোটা প্রক্রিয়া সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর নজরদারিতে হবে। দোষীদের এমন শাস্তি দেওয়া হবে যা উদাহরণ হয়ে থাকবে। সরকারের কিছু সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে এবং আমরা পরিবারের পাশেই আছি।” মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য করছেন, তা সময়মতো পরিবারের সদস্যরাই প্রকাশ্যে আনবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। শেষমেশ মৃতার বাবার সরকারি চাকরি এবং আর্থিক পুনর্বাসনের খবরটি সামনে আসতেই প্রশাসনের এই তৎপরতা ও সংবেদনশীলতাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।






