রাজ্যের খবর

“আগের সরকার এক চোখ বন্ধ করে রাখত!”, শ্রাবণী মেলার মঞ্চ থেকে তৃণমূলকে তুলোধোনা শুভেন্দুর!

শিবভক্তদের জন্য শতাব্দীর সেরা উপহার! জাতীয় উৎসবের মর্যাদা পেয়ে কীভাবে বদলাচ্ছে তারকেশ্বর?

Truth of Bengal: ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এবার বাংলার ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসবগুলিকে ঢেলে সাজাতে কোমর বেঁধে নামল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এবার বিশেষভাবে নজরে তারকেশ্বরের ঐতিহ্যবাহী শ্রাবণী মেলা। মঙ্গলবার এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে গিয়ে একদিকে যেমন ভক্তদের জন্য একাধিক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী, তেমনই অন্যদিকে পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন তিনি। তোষণ ও ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণে এতদিন তারকেশ্বর অবহেলিত ছিল বলে দাবি করেন শুভেন্দু অধিকারী।

আগামী ১৮ তারিখ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে চলেছে তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলা। তার আগে আজ, মঙ্গলবার মেলার শুভ উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “প্রাক্তন সরকার এক চোখ বন্ধ করে রাখত। তোষণ ও ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিতে ব্যস্ত ছিল। তারকেশ্বর এতদিন অবহেলিত ছিল।” শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়া।

প্রথমবার জাতীয় উৎসবের মর্যাদা!

পরিবর্তনের বাংলায় এবার হিন্দু সনাতনী ভাবাবেগ ও লোকসংস্কৃতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান সরকার। আর সেই লক্ষ্যেই তারকেশ্বর এবং শ্রাবণী মেলাকে ঘিরে থাকা কোটি কোটি মানুষের আবেগ ও ভক্তিকে সম্মান জানিয়ে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই প্রথমবার তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলাকে জাতীয় মেলা তথা জাতীয় উৎসবের মর্যাদা দেওয়া হল। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসে লক্ষ লক্ষ শিবভক্ত ও কাঁউড়িয়া তারকেশ্বরে শিবের মাথায় জল ঢালতে আসেন। সেই বিপুল সমাগমের কথা মাথায় রেখেই এবার গোটা মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন এলাকাকে নবরূপে সাজিয়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

কড়া নিরাপত্তা ও পূর্ণার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

তৃণমূল জমানার শাসনকালকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের আমলে হাতে গোনা ট্রাফিক পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ার দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে নিরাপত্তা ও নজরদারির কাজ চালানো হতো। কিন্তু এবার আর তা হবে না। পূর্ণার্থীদের যাত্রা যাতে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ হয়, তার জন্য পুলিশি নিরাপত্তা একবারে আঁটসাঁট করা হয়েছে।

শ্যাওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর যাওয়ার দীর্ঘ পথ জুড়ে থাকবে বিশেষ সরকারি ক্যাম্প। এই ক্যাম্পগুলি থেকে পূর্ণার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত পানীয় জল, ওআরএস এবং প্রাথমিক চিকিৎসার মতো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ব্যবস্থা করা থাকবে। সব মিলিয়ে, দেশ ও ধর্মের মেলবন্ধনে জাতীয়তাবাদ এবং ঐতিহ্যরক্ষার এক নতুন বার্তা দিয়ে নবরূপে শ্রাবণী মেলার সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Related Articles