রাজ্যের খবর

কাদের জব্দ করতে গুন্ডাদমন আইন কার্যকর? সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যে জারি ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যাক্ট’, দাগী অপরাধীদের সোজা জেলাছাড়া করার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর!

Truth of Bengal: রাজ্যজুড়ে গুন্ডারাজ এবং সমাজবিরোধী কার্যকলাপ রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামল প্রশাসন। সোমবার থেকেই পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়ে গেল বহু চর্চিত ‘গুন্ডাদমন আইন’। আর এই আইন রূপায়ণ হতেই বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিলেন, বিগত বাম জমানার ‘হার্মাদ’ এবং তৃণমূল জমানার ‘গুন্ডাদের’ জব্দ করার জন্যই এই কড়া আইনের প্রয়োজন ছিল।

গত শুক্রবারই বারুইপুরের এক সভা থেকে এই আইন কার্যকর করার বিষয়ে বড় ঘোষণা করেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার থেকে রাজ্যজুড়ে চালু হওয়া এই আইনের পোশাকি নাম ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ় অ্যাক্ট, ২০২৬’। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই নয়া আইনের ফলে রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনের ক্ষমতা একধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেল। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘‘এই আইনের খুব দরকার ছিল। রাজ্যে ১৫ বছর গুন্ডাদের সরকার চলেছে, আর তার আগে ছিল হার্মাদদের সরকার। এই ৩৪ বছরের কমিউনিস্ট হার্মাদ এবং ১৫ বছরের তৃণমূলী গুন্ডাদের শায়েস্তা করতেই এই আইন আনা হয়েছে।’’

কী রয়েছে এই নতুন আইনে? কেন ঘুম উড়ছে অপরাধীদের?

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই নতুন আইনটি কার্যত কেন্দ্রীয় সরকারের ‘জাতীয় নিরাপত্তা আইন’ বা এনএসএ (NSA)-এর সমকক্ষ। এই আইনের সবচেয়ে বড় দিক হল, প্রশাসন যদি মনে করে কোনও ব্যক্তি জননিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক কিংবা কোনও বড় অপরাধের ষড়যন্ত্র করছে, তবে অপরাধ ঘটার আগেই তাকে বিনা বিচারে সর্বোচ্চ ১ বছর অর্থাৎ ১২ মাস পর্যন্ত আটকে রাখা যাবে।

এখানেই শেষ নয়, আইনে যুক্ত হয়েছে ‘এক্সটার্নমেন্ট অর্ডার’ বা এলাকাছাড়া করার ক্ষমতা। এর ফলে জেলাশাসক (DM), পুলিশ কমিশনার বা ডিআইজি (DIG) পদমর্যাদার আধিকারিকেরা নিশ্চিত হলে, যেকোনও দাগী অপরাধীকে এক বছরের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা বা পুরো জেলা থেকে বহিষ্কার করতে পারবেন।

পাশাপাশি, এই আইনের আওতাধীন সমস্ত অপরাধকে সম্পূর্ণভাবে ‘জামিন-অযোগ্য’ করা হয়েছে। ফলে পুলিশ কোনও ওয়ারেন্ট ছাড়াই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারবে এবং সহজে আদালত থেকে জামিন পাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কড়া ধারা। কোনও ব্যক্তি যদি সিন্ডিকেট বা সংগঠিত অপরাধের মাধ্যমে টাকা বা সম্পত্তি রোজগার করেন, তবে প্রশাসন সরাসরি তা বাজেয়াপ্ত করতে পারবে। স্বাভাবিকভাবেই, সোমবার থেকে এই আইন চালু হতেই অপরাধী মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে।

Related Articles