দিনে ২ হাজার থেকে একলাফে ৩ লাখ! ধৃতদের জেরায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
তদন্তে জানা গেছে, শুরুতে মাত্র দু’জন এই চুরির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ধীরে ধীরে বাকিদের মধ্যেও বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে এবং তৈরি হয় আস্ত একটি চক্র।
রামমন্দিরের অর্থ চুরির ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিন অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। ধৃত করুণেশ পান্ডে, লবকুশ তিওয়ারি ও অনুকল্প মিশ্রকে জেরা করতেই বেরিয়ে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। পুলিশি জেরায় ধৃতরা স্বীকার করেছে, মন্দিরের দানের টাকা প্রথম চুরি করতে শুরু করেছিল অবিনাশ শুক্লা নামে এক ব্যক্তি। শুরুতে চুরির পরিমাণ দিনে মাত্র ২,০০০ টাকা হলেও, পরবর্তীতে রীতিমতো দল গঠন করে চলত এই অপরাধ। সাহস বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চুরির অঙ্ক একলাফে বেড়ে দিনে প্রায় ৩ লক্ষ টাকায় গিয়ে ঠেকে।
তদন্তে জানা গেছে, শুরুতে মাত্র দু’জন এই চুরির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ধীরে ধীরে বাকিদের মধ্যেও বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে এবং তৈরি হয় আস্ত একটি চক্র। মন্দিরের টাকা গোনার পর কর্মীদের তল্লাশি না করার সুযোগ নিয়েই অবলীলায় এই কাণ্ড ঘটাত অভিযুক্তরা। অভিনব কায়দায় চুরি করা টাকা প্রথমে মন্দিরের শৌচাগারের পয়ঃনিষ্কাশন লাইনের জন্য খোঁড়া একটি গোপন গর্তে লুকিয়ে রাখা হতো। গর্তের ভেতর তৈরি করা তাক এবং ঢাকনার কারণে কারও মনে কোনও সন্দেহ জাগেনি। এরপর ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার সময় সুযোগ বুঝে সেই টাকার বান্ডিলগুলো নিজেদের পকেট ও মোজার ভেতর লুকিয়ে মন্দির চত্বরের বাইরে পাচার করে দিত তারা।
অভিযুক্তরা পুলিশকে জানিয়েছে, প্রথম দিকে ধরা পড়ার ভয়ে তারা প্রত্যেকে দিনে ২,০০০ টাকা করে সরাত। কিন্তু দিনের পর দিন কেউ কোনও প্রশ্ন বা সন্দেহ না করায় তাদের লোভ ও সাহস দুই-ই আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, শেষ দিকে তাদের মধ্যে কে কত বেশি টাকা গায়েব করতে পারে, তা নিয়ে রীতিমতো প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গিয়েছিল। এক দিনে পকেটে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ঢোকানো তো তাদের কাছে জলভাত হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পুলিশের দাবি, ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা অর্থ লুঠ করলেও অভিযুক্তদের মনে এখনও কোনও অনুশোচনা বা অপরাধবোধ নেই। অত্যন্ত সহজভাবেই পুলিশের কাছে নিজেদের এই কুকীর্তির কথা স্বীকার করেছে তারা।





