কলকাতা

এক মাসে দ্বিতীয়বার বঙ্গ সফরে অমিত শাহ, কী কী কর্মসূচি রয়েছে তাঁর?

রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর শিল্পায়ন ও নতুন বিনিয়োগে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার

Truth of Bengal: ৬ জুলাইয়ের সফরের পর একই মাসে দ্বিতীয়বার পশ্চিমবঙ্গে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগামী ১৮ ও ১৯ জুলাই তাঁর দু’দিনের রাজ্য সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথম দিনে হাওড়ার সাঁকরাইলে আমুলের মেগা দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং পরের দিন দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক করার কথা রয়েছে বলে সূত্রের খবর। গত ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কলকাতায় এসেছিলেন শাহ। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর শিল্পায়ন ও নতুন বিনিয়োগে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। সেই উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হতে চলেছে হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে আমুলের প্রস্তাবিত মেগা ডেয়ারি ইউনিট। আগামী ১৮ জুলাই অমিত শাহ ওই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে পারেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায়ের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন বা জিসিএমএমএফ ‘আমুল’ ব্র্যান্ডের অধীনে এই কারখানাটি তৈরি করবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে প্রতিদিন প্রায় ১৫ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতা থাকবে। পাশাপাশি প্রতিদিন ১০ লক্ষ কেজি দই উৎপাদনের পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, এটি বিশ্বের বৃহত্তম দই উৎপাদনকারী ইউনিটগুলির অন্যতম হতে চলেছে। দুধ ও দইয়ের পাশাপাশি ওই কারখানায় মিষ্টি দই, লস্যি, পনির, মাখন, ঘি এবং আইসক্রিমের মতো বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন করা হবে। হাওড়ার সাঁকরাইল জাতীয় সড়ক, রেলপথ এবং কলকাতা বন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় কাঁচামাল সংগ্রহ ও পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রকল্পটি চালু হলে কারখানায় কয়েকশো মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হতে পারে। পাশাপাশি দুধ সংগ্রহ, পরিবহণ, হিমঘর, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সহযোগী ক্ষেত্রে কয়েক হাজার পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও রয়েছে। স্থানীয় দুগ্ধ উৎপাদকদের জন্য স্থায়ী বাজার ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে প্রশাসনের আশা। রাজ্য সরকারের দাবি, বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৈরি হওয়া শিল্পবান্ধব পরিবেশে বিভিন্ন বড় সংস্থা নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সেই বিনিয়োগ-বার্তাকে সামনে রেখেই অমিত শাহের উপস্থিতিতে আমুলের মেগা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা হতে চলেছে। সফরের দ্বিতীয় দিন, ১৯ জুলাই অমিত শাহের মূলত সাংগঠনিক কর্মসূচি থাকতে পারে। রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি দলের সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গেও পৃথক আলোচনা করার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যে সরকার গঠনের পর দল ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়, সংগঠনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা এবং তৃণমূল স্তরে বিজেপির শক্তি ধরে রাখার কৌশল নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হতে পারে। ওই দিন বিকেলেই তাঁর দিল্লি ফিরে যাওয়ার কথা।

Related Articles