ফেসবুক লাইভে পরাজয় মেনে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে কী বার্তা দিলেন মমতা?
শনিবার একটি ফেসবুক লাইভে এসে তিনি রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানান
Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অভাবনীয় ভরাডুবির পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই ফলাফল তিনি কোনোভাবেই মেনে নিচ্ছেন না। তিনি নিজে হারেননি—এই দাবিতে অনড় থেকে তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে রাজভবনেও যাননি। তবে এর পর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ দুই মাস। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই দল ছাড়ার হিড়িক লেগেছে ঘাসফুল শিবিরে, যা তৃণমূলকে কার্যত খণ্ডবিখণ্ড করে দিয়েছে। দলের এই চরম ভাঙনের আবহে অবশেষে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান বদল করে পরাজয় স্বীকার করে নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার একটি ফেসবুক লাইভে এসে তিনি রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানান এবং পাশাপাশি এও স্পষ্ট করেন যে, মানুষের স্বার্থে কাজ করলে তিনি তাঁর পাশে থাকবেন।
ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘ লড়াইয়ের পর বাংলায় ৩৪ বছরের বাম সাম্রাজ্যের পতন ঘটিয়েছিলেন। এর পর একটানা দীর্ঘ ১৫ বছর তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে আসীন ছিলেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের আগে পর্যন্ত তিনি হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি যে বাংলার মানুষ তাঁর দল থেকে এভাবে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। কিন্তু ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলায় ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ভোটের ফল ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টা পর এক সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছিলেন যে নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে, তাই তিনি এই ফলাফল মানেন না এবং রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগও করবেন না। স্বাভাবিকভাবেই শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিতেও তিনি অস্বীকার করেছিলেন। তবে ঘটনার দুই মাস পর, শনিবার ফেসবুক লাইভে এসে অবশেষে সেই গোঁড়ামি ঝেড়ে ফেলে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তৃণমূল নেত্রী।
ফেসবুক লাইভে এসে শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ স্মৃতিচারণও করেন। তিনি বলেন, “নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আপনি আজ মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন ঠিকই, কিন্তু আপনিও তো বহু বছর তৃণমূল করেছেন, তার আগে কংগ্রেসও করেছেন। আপনিও তো অতীতে হেরেছেন, আর আপনার সেই হারের পর আপনার জন্য আমি নিজে প্রচারে গিয়েছিলাম, যদিও ওটা আমার দলনেত্রী হিসেবে দায়িত্ব ছিল। আপনি তৃণমূল সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন, ৬টি জেলার দায়িত্ব সামলেছেন। হলদিয়া ও দিঘা উন্নয়ন পর্ষদও আপনাদের হাতেই ছিল।”
এরপরই তৃণমূলের একঝাঁক নেতার দলবদল এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। বিদ্রোহী নেতাদের নিশানা করে তিনি বলেন, “যারা আজ আপনার দলে যোগ দিল, তারা বুঝি আপনার সঙ্গে গিয়ে ধুয়ে-মুছে একদম সাধু হয়ে গেল? আর যারা গেল না, তাদের হেনস্তা করার জন্য সিবিআই, ইডি এবং আরও কত কী লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে! তবে একটা কথা মনে রাখবেন, বিজ্ঞানের নিয়ম অনুসারেই সব ক্রিয়ারই একটি সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া রয়েছে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের দুই মাস পর মমতার এই নমনীয় মনোভাব এবং শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনাটি বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক অধ্যায়ের সূচনা করল।





