শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ তম জন্মবার্ষিকীতে নবান্নের বড় পদক্ষেপ! বছরভর রাজ্য জুড়ে উদযাপনের নির্দেশিকা
রাজ্যের প্রতিটি জেলা সদর, ব্লক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বছরভর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হবে
Truth of Bengal: ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী সারা বছর ধরে সাড়ম্বরে পালনের সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। এই মর্মে নির্দেশিকা জারি করেছে নবান্ন। রাজ্যের প্রতিটি জেলা সদর, ব্লক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বছরভর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং সরকারি স্পনসরড স্কুল, কলেজ, পলিটেকনিক কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও আইআইটিতে বিশেষ অধিবেশনের আয়োজন করতে হবে। পড়ুয়াদের সামনে শ্যামাপ্রসাদের জীবন, কর্মজীবন এবং দেশের প্রতি তাঁর অবদান তুলে ধরতেই নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ। আলোচনা সভা, রচনা প্রতিযোগিতা, বিতর্ক সভা এবং কুইজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাঁর ভাবনা ও ভূমিকা নিয়ে চর্চা হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে।
রাজ্যের সমস্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উপর বিশেষ বক্তৃতার আয়োজনের কথাও বলা হয়েছে নির্দেশিকায়। বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষাতেই তাঁর জীবনী ও কর্মজীবন নিয়ে শিক্ষামূলক বুকলেট এবং পঠনসামগ্রী প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে প্রতি বছর তাঁর স্মরণে বার্ষিক মেমোরিয়াল লেকচারের ব্যবস্থাও করা হবে। গত ৩ জুন রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে বছরব্যাপী এই উদযাপনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এরপর ২৩ জুন রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের তরফে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেই বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অবিলম্বে কর্মসূচি কার্যকর করতে হবে। বছরব্যাপী এই অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য প্রতিটি জেলায় গঠন করা হবে ‘জেলা লেভেল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ১২৫ উদযাপন কমিটি’। কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসক। সদস্য হিসেবে থাকবেন পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক, পুরসভার কমিশনার বা এগজিকিউটিভ অফিসার, মহকুমাশাসক এবং জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক। জেলাশাসকের মনোনীত এলাকার সাংসদ ও বিধায়করাও থাকবেন এই কমিটিতে।
শুধু অনুষ্ঠান নয়, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত স্থান এবং স্মারকগুলির সংস্কার ও সংরক্ষণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তাঁর জীবন ও অবদানের উপর স্থায়ী গ্যালারি এবং প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হবে। তাঁর নথিপত্র, বক্তৃতা এবং চিঠিপত্র ডিজিটাইজড করারও পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্মৃতিফলক বসানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা সদর থেকে ব্লক—রাজ্যজুড়ে বছরভর নানা কর্মসূচির মাধ্যমে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী পালনের প্রস্তুতি শুরু করল নবান্ন।





