আমেরিকা-ইরান সমঝোতার পর হরমুজ পেরিয়ে ভারতে ৩০ টি জাহাজ, অপেক্ষায় আরও ২৬
এই জাহাজগুলির মধ্যে যেমন ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে, তেমনই রয়েছে বিভিন্ন বিদেশি পতাকাবাহী ভারতমুখী বাণিজ্যিক জাহাজও।
Truth of Bengal: আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (মউ) স্বাক্ষরের পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, মউ স্বাক্ষরের পর থেকে ইতিমধ্যেই ভারতমুখী অন্তত ১১টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। পাশাপাশি, আরও ২৬টি জাহাজ বর্তমানে পারস্য উপসাগরে অপেক্ষা করছে হরমুজ় পেরিয়ে ভারতের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার জন্য।জাহাজ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকা-ইরান সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ৩০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতে এসেছে। এই জাহাজগুলির মধ্যে যেমন ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ রয়েছে, তেমনই রয়েছে বিভিন্ন বিদেশি পতাকাবাহী ভারতমুখী বাণিজ্যিক জাহাজও।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা চরমে ওঠে। এর পর গত ১১ মার্চ থেকে হরমুজ প্রণালীতে কার্যত অবরোধ শুরু করে ইরান। তেহরানের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল, কোনও জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করলে তার উপর হামলা চালানো হতে পারে। এর জেরে প্রণালীর দুই প্রান্তেই বহু বাণিজ্যিক জাহাজ আটকে পড়ে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও তার প্রভাব পড়ে।
তবে কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তিতে কয়েকটি দেশের বাণিজ্যিক জাহাজকে হরমুজ় প্রণালী ব্যবহার করার অনুমতি দেয় ইরান। সেই তালিকায় ছিল ভারতও। গত ১১ মার্চ সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর প্রথম ভারতমুখী জাহাজটি হরমুজ পেরিয়ে আসে। ওই জাহাজে এক লক্ষ টনেরও বেশি অশোধিত জ্বালানি ছিল বলে জানা গিয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি, ১ মার্চ থেকে ১৭ জুনের মধ্যে মোট ১৯টি ভারতমুখী জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে। পরে, গত ১৭ জুন আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে মউ স্বাক্ষরের পর আরও ১১টি জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করে ভারতে পৌঁছেছে। মোট ৩০টি জাহাজের মধ্যে ১৭টিই বিদেশি পতাকাবাহী।
ইতিমধ্যেই হরমুজ পেরিয়ে আসা জাহাজগুলির প্রায় অর্ধেকই এলপিজি এবং প্রাকৃতিক গ্যাস বহন করেছে। অন্যদিকে, বর্তমানে যে ২৬টি জাহাজ প্রণালী পার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, তার মধ্যে তিনটিতে রয়েছে জ্বালানি, ১০টিতে সার এবং বাকি ১৩টিতে অন্যান্য পণ্যসামগ্রী রয়েছে। আমেরিকা-ইরান সমঝোতার পর গত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। সম্প্রতি তেহরান জানিয়েছে, হরমুজের পরিস্থিতি আর কখনওই সংঘর্ষ-পূর্ব অবস্থায় ফিরবে না। তবে ভবিষ্যতে কোনও ধরনের ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে একটি ‘টেলিফোন হটলাইন’ চালু করতে সম্মত হয়েছে ইরান। আমেরিকা-সহ অন্যান্য দেশের জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করার সময় প্রয়োজনে ওই হটলাইনের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারবে বলে জানিয়েছে তেহরান।


