তারাতলার দুর্ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথেই আটকানো হলো ফিরহাদ হাকিমকে! মাঝরাস্তা থেকেই ফেরাল পুলিশ
মাঝরাস্তায় পুলিশি বাধার মুখে পড়ে তাঁকে ফিরে আসতে হয়।
Truth of Bengal: কলকাতার তারাতলার ব্রেসব্রিজ এলাকায় নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ ধসে পড়ার ঘটনায় তোলপাড় গোটা রাজ্য। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে সেনা, দমকল, পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে। একের পর এক আহত শ্রমিককে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মাঝেই দুর্ঘটনাস্থলকে কেন্দ্র করে তৈরি হল রাজনৈতিক নাটকীয়তা। বুধবার দুপুরে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর উদ্ধারকাজের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে নবান্ন থেকে রওনা দেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং ইন্দ্রনীল খাঁ। অন্যদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র তথা বন্দর এলাকার বিধায়ক ফিরহাদ হাকিমও। কিন্তু দুর্ঘটনাস্থলের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত সেখানে যেতে পারলেন না তিনি। মাঝরাস্তায় পুলিশি বাধার মুখে পড়ে তাঁকে ফিরে আসতে হয়।
নবান্ন ও পুলিশ সূত্রে খবর, তারাতলার মূল দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরেই ফিরহাদ হাকিমকে থামানো হয়। পুলিশের তরফে তাঁকে জানানো হয়, পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ঘটনাস্থলে গেলে তাঁর নিরাপত্তা এবং সম্মানহানির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই আপাতত সেখানে না যাওয়ার অনুরোধ করা হয় তাঁকে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলের বহু নেতা-নেত্রীর অবস্থান কঠিন হয়ে উঠেছে। একদিকে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে একাধিক প্রাক্তন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, অন্যদিকে বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভও প্রকাশ্যে আসছে। সেই প্রেক্ষাপটে তারাতলার মতো দুর্ঘটনাস্থলে ফিরহাদ হাকিমের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারত বলেই মনে করা হচ্ছে। তারাতলার এই গোডাউন ধসের পর থেকেই নির্মাণের মান, কাঠামোগত দুর্বলতা এবং পুরসভার নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, নির্মাণকাজে গাফিলতি ছিল। সেই কারণে দায় নিয়ে আঙুল উঠছে বিগত পুর প্রশাসনের দিকেও। এই পরিস্থিতিতে প্রাক্তন মেয়র ঘটনাস্থলে গেলে জনরোষের মুখে পড়তে পারতেন বলে আশঙ্কা ছিল। সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখেই পুলিশ তাঁকে এগোতে দেয়নি বলে মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্রেসব্রিজের কাছে ওই বিশাল গুদাম তৈরির কাজ প্রায় দেড় বছর ধরে চলছিল। বাসিন্দাদের দাবি, বুধবার সকাল থেকেই গোডাউনের লোহার কাঠামো অস্বাভাবিকভাবে নড়ছিল। সেই নড়বড়ে অংশ পরীক্ষা করতে কয়েকজন শ্রমিক ছাদ ও নীচের অংশে কাজ করছিলেন। ঠিক সেই সময়ই হঠাৎ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে লোহার ছাদ এবং ভারী বিম। মুহূর্তের মধ্যে নীচে কর্মরত শ্রমিকরা ধ্বংসস্তূপের তলায় চাপা পড়ে যান। দুর্ঘটনার পর এলাকায় চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল, পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং সেনা। বর্তমানে গ্যাসকাটার ও ক্রেনের সাহায্যে লোহার বিম কেটে উদ্ধারকাজ চলছে। ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে আটকে থাকা শ্রমিকদের সাড়া পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাইরে থেকে তাঁদের নাম ধরে ডেকে অবস্থান বোঝার চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।





