‘মমতা হেরেই গিয়েছেন, জনতাই তাঁকে চায়নি!’ এক মাসের মধ্যে সুর বদলে মমতাকে তীব্র আক্রমণ অখিলেশের দূতের
অখিলেশ যাদবের ঘনিষ্ঠ কিরণময় নন্দ কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন
Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকেই ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, ভোটে কারচুপি করে বিজেপিকে জেতানো হয়েছে এবং তৃণমূলকে হারানো হয়েছে। সেই দাবি ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনা শুরু হয়েছিল। ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও প্রথমদিকে মমতার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এমনকি কলকাতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছিলেন তিনি। কিন্তু এক মাসের মধ্যেই সেই সমর্থনের সুরে বদল দেখা গেল। সোমবার কলকাতায় এসে সমাজবাদী পার্টির জাতীয় সহ-সভাপতি তথা অখিলেশ যাদবের ঘনিষ্ঠ কিরণময় নন্দ কার্যত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হার স্বীকার না করলেও বাস্তব হল, তিনি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন এবং জনতা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়কদের পেনশন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য সোমবার বিধানসভায় স্পিকারের ঘরে একটি বৈঠক ছিল। সেই বৈঠকে যোগ দিতেই কলকাতায় আসেন রাজ্যের প্রাক্তন মৎস্যমন্ত্রী কিরণময় নন্দ। সেখানেই তৃণমূল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। কিরণময় নন্দ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুটো জায়গাতেই হেরেছেন। আগেও তিনি হেরেছিলেন, তখনও বলেছিলেন হারেননি। এবারও তাই। ভবানীপুরের জনতাই তাঁকে আর চায়নি।” অখিলেশ যাদবের পূর্ববর্তী সমর্থন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার দলের নেতা এসে বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হারেননি। কিন্তু উনি তো হেরেছেন। অখিলেশ যা বলেছেন, তা রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা। বাস্তব কিন্তু আলাদা।” তাঁর দাবি, বাংলায় নির্বাচন সঠিকভাবেই হয়েছে। কিরণময় নন্দের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকা সমাজবাদী পার্টির শিবির থেকেই এবার ভিন্ন সুর শোনা গেল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্তব্য শুধু মমতার প্রতি দূরত্বের ইঙ্গিত নয়, ইন্ডিয়া জোটের অন্দরের ফাটলকেও আরও স্পষ্ট করল।
এদিন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও করেন কিরণময় নন্দ। তাঁর কথায়, “নতুন সরকারের আমলে ভালো কাজ হচ্ছে। ১৫ বছরের দুর্নীতি ও অত্যাচার থেকে বাংলা মুক্ত হয়েছে। বাংলায় নতুন সূর্যোদয় হয়েছে।” তিনি আরও জানান, তিনিও পূর্ব মেদিনীপুরের ভোটার, শুভেন্দু অধিকারীর এলাকার মানুষ। তবে শুভেন্দু এখন মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় হঠাৎ করে দেখা করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কিরণময়ের আশা, পরে আবার কলকাতায় এলে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দেখা হবে। সব মিলিয়ে সমাজবাদী পার্টির জাতীয় সহ-সভাপতির এই মন্তব্য বাংলার রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোট-কারচুপির অভিযোগকে সরাসরি খারিজ করা, অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের প্রশংসা—দুই মিলিয়ে ইন্ডিয়া জোটের ভিতরে নতুন অস্বস্তি তৈরি হল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।






