বিদ্রোহীদের বৈঠকের মাঝেই দিল্লিতে নাটক! অভিষেকের চিঠি নিয়ে স্পিকারের দ্বারস্থ সাগরিকা-কীর্তি
কাকলি-সুদীপদের চাল ভেস্তে দিতে এবার আসরে অভিষেক! বিদ্রোহী ব্লকের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন চিঠিতে
Truth of Bengal: দিল্লিতে যখন বিজেপি নেতা ভূপেন্দ্র যাদব-নিশিকান্ত দুবের সঙ্গে বৈঠকে তৃণমূলের ২০ জন ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ, ঠিক তখনই দিল্লির বুকে ঘটে গেল এক অভূতপূর্ব পাল্টা নাটক। সোমবার সকালে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে বিদ্রোহী সাংসদরা আলাদা ব্লক গঠনের যে মেগা ছক কষেছিলেন, তা ভেস্তে দিতে এবার বিকেলেই আসরে নামলেন খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সুদীপ-কাকলিদের আবেদন জমা পড়ার আগেই, তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদকের অত্যন্ত জরুরি ও বিস্ফোরক চিঠি পকেটে নিয়ে সরাসরি স্পিকার ওম বিড়লার দিল্লির বাসভবনে গিয়ে হাজির হলেন রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ (Sagarika Ghose) এবং লোকসভার সাংসদ কীর্তি আজাদ (Kirti Azad)।
“বিদ্রোহী ব্লকের কোনও আইনি বৈধতা নেই!” স্পিকারের টেবিলে সওয়াল
রবিবার সারা দিন ধরে দিল্লির বুকে রাজনৈতিক পারদ ছিল সপ্তমে। জল্পনা ছড়িয়েছিল যে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী রবিবার রাতেই অথবা সোমবার সকালে স্পিকারের কাছে দল ভাঙার চিঠি দিয়ে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বা আলাদা এনডিএ-পন্থী ব্লক হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন।
এই খবর কালীঘাটে পৌঁছানো মাত্রই পাল্টা রণকৌশল তৈরি করে মমতার শিবির। অভিষেকের পাঠানো চিঠিতে আইনি ধারা মনে করিয়ে দিয়ে স্পিকারের কাছে সাগরিকা ও কীর্তি আজাদ দাবি করেন, দলবিরোধী আইন অনুযায়ী এই বিদ্রোহী ব্লকের বা আলাদা গোষ্ঠী তৈরির কোনওরকম আইনি বৈধতা (Legality) নেই। মূল রাজনৈতিক দল বা ওয়ার্কিং কমিটির সায় ছাড়া লোকসভার ভেতরে এভাবে রাতারাতি দল ভেঙে আলাদা ব্লক করা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক।
TMC Parliamentary Party Leader and National General Secretary of the party, Abhishek Banerjee, writes to Lok Sabha Speaker Om Birla over “news reports that certain TMC Lok Sabha MPs have submitted, or propose to submit, a communication to your good office seeking to be recognised… pic.twitter.com/aYm727mGRF
— ANI (@ANI) June 14, 2026
শেষ মুহূর্তে তাসের ঘর বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা
ছাব্বিশে বাংলার ক্ষমতার রাশ ইতিমধ্যেই হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। আর এবার দিল্লির সংসদীয় দলটিকে বাঁচাতে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, সুদীপ-কাকলিরা যখন বৈঠকে নিজেদের রণকৌশল চূড়ান্ত করতে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই তাঁদের পিছন থেকে আইনি বাউন্সারটি ছুঁড়ে দিল কালীঘাট।
সূত্রের খবর, দলনেত্রীর নির্দেশ অমান্য করে যে ২০ বা ২২ জন সাংসদ এনডিএ-র দিকে পা বাড়াচ্ছেন, তাঁদের সাংসদ পদ বাতিলের হুঁশিয়ারিও রয়েছে ওই চিঠিতে। এখন দেখার, সোমবার সকালে স্পিকার ওম বিড়লা বিদ্রোহীদের গেরুয়া চিঠিতে সবুজ সঙ্কেত দেন, নাকি অভিষেকের আইনি বাণে আটকে যায় তৃণমূলের এই মেগা ভাঙন।





