রাজ্যের খবর

গ্রন্থাগার থেকে সরছে মমতার ‘এপাং-ওপাং-ঝপাং’! দায়িত্ব নিয়েই বিরাট ঘোষণা নতুন মন্ত্রী গৌরীশংকরের

দূর হবে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বই, লাইব্রেরিতে এবার রাষ্ট্রবাদের পাঠ!

Truth of Bengal: ছাব্বিশের ঐতিহাসিক পালাবদলের পর পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি সরকারি দফতরেই যে এক বিশাল রদবদল ও খোলনলচে বদলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ মিলল এবার রাজ্যের শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রগুলোতে। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) লেখা বহুচর্চিত বইগুলি, যা এতদিন সরকারি গ্রন্থাগারগুলির তাকে সাজানো থাকত, এবার সেগুলি এক লহমায় বাদ পড়তে চলেছে। বৃহস্পতিবার জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেই এই চাঞ্চল্যকর ও মেগা সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন বিজেপি নেতা গৌরীশংকর ঘোষ (Gouri Shankar Ghosh)। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গ্রন্থাগারে আর কোনও ‘এপাং-ওপাং-ঝপাং’-এর মতো বইয়ের স্থান হবে না; তার বদলে সেখানে জায়গা করে নেবে সনাতনী ভারতের গৌরব এবং রাষ্ট্রবাদী চেতনার সাহিত্য।

“একনায়কতন্ত্র শেষ, ফিরবেন শ্যামাপ্রসাদ-বিবেকানন্দ”

দায়িত্ব নিয়েই পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন নতুন লাইব্রেরি মন্ত্রী। গৌরীশংকর ঘোষের দাবি, “বিগত সরকার পুরোপুরি একনায়কতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে চলেছে, যেখানে নেত্রীর নিজস্ব আইন ও ইচ্ছাই শেষ কথা ছিল। অত্যন্ত সুকৌশলে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো মনীষীকে বাঙালির মন থেকে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু ওঁর অবদান ভোলার নয়। তাই এখন থেকে সমস্ত সরকারি লাইব্রেরিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বই সসম্মানে রাখা হবে। এর পাশাপাশি স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো মনীষীদের প্রকৃত আদর্শকে ফিরিয়ে আনা হবে।”

Mamata Banerjee's 19 books recommended for school libraries

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সাহিত্যিক প্রতিভাকে তীব্র কটাক্ষ করে মন্ত্রী বলেন, “এপাং-ওপাং-ঝপাং-এর মতো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা অপ্রয়োজনীয় বই লাইব্রেরিতে রেখে কোনও লাভ নেই। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর লেখা যে সমস্ত বই পড়ে ছাত্রছাত্রীদের কোনও নৈতিক বা বৌদ্ধিক জ্ঞান অর্জন হবে না, সেগুলি অবিলম্বে সরানো হবে। তার বদলে জাতীয়তাবাদ, আধুনিক বিজ্ঞান, বৈদিক সংস্কৃতি ও বাংলার প্রকৃত মনীষীদের বইয়ে সাজানো হবে লাইব্রেরি।” এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে প্রতিটি লাইব্রেরিকে ‘ই-লাইব্রেরি’ হিসেবে গড়ে তোলার ডিজিটাল পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

‘বিকৃত ইতিহাস’ মুছে জাতীয়তাবাদের নয়া পাঠ?

গ্রন্থাগার মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর শিক্ষামহলে এক মস্ত বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। উল্লেখ্য, মাত্র কয়েকদিন আগেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য অভিযোগ তুলেছিলেন যে, বর্তমান স্কুল পাঠ্যবইগুলোতে ভারতের আসল গৌরবময় ইতিহাস বাদ দিয়ে এক বিকৃত ইতিহাস পড়ানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একাধিক বক্তব্যেও বারবার দেশের প্রকৃত ইতিহাস ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সম্মান ফিরিয়ে আনার কথা উঠে এসেছে।

Mamata Banerjee's 19 books recommended for school libraries

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আরএসএস (RSS) দীর্ঘদিন ধরেই বাংলার সামগ্রিক শিক্ষানীতি, পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের সওয়াল করে আসছিল। গ্রন্থাগার মন্ত্রীর এই প্রথম দিনের আগ্রাসী ঘোষণা তারই প্রথম ধাপ বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে ছাব্বিশের নতুন বঙ্গে বাম-তৃণমূল জমানার চেনা ইতিহাসের পাঠ মুছে এবার যে পুরোপুরি বৈদিক বিজ্ঞান, সনাতন সংস্কৃতি ও খাঁটি রাষ্ট্রবাদের শিক্ষাই প্রধান হয়ে উঠতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Related Articles