‘ত্রাণচুরির অভিযোগ ভিত্তিহীন’, উজ্জ্বল বিশ্বাসের গ্রেপ্তারি নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠল মহুয়া
ত্রাণচুরির অভিযোগ উড়িয়ে মহুয়া বলেন, সরকারের তরফে জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিভিন্ন সময়ে ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়
Truth of Bengal: প্রাক্তন কারামন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা উজ্জ্বল বিশ্বাসের গ্রেপ্তারি নিয়ে এবার প্রশ্ন তুললেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। মঙ্গলবার ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখার অভিযোগে উজ্জ্বল বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু নথি তুলে ধরে মহুয়ার দাবি, ত্রাণচুরির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর অভিযোগ, জনরোষ থেকে উদ্ধার করার নামে প্রাক্তন মন্ত্রীকে প্রথমে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ঘটনার সূত্রপাত কৃষ্ণনগরে উজ্জ্বল বিশ্বাসের বাড়ি থেকে ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের অভিযোগ ঘিরে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই তাঁর বাড়ির সামনে উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়িতে সরকারি ত্রাণসামগ্রী মজুত ছিল। অভিযোগ, তাঁর বাড়ির সামনে একটি গাড়িতে সরকারি ত্রিপল তোলা হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাড়ির সামনে ভিড় জমে।
অভিযোগ, সেই সময় উজ্জ্বল বিশ্বাসকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়। তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। প্রবল উত্তেজনার মধ্যেই পুলিশ প্রাক্তন মন্ত্রীকে থানায় নিয়ে যায়। তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় ‘চোর চোর’ স্লোগান ওঠে বলেও অভিযোগ। মহুয়া মৈত্রর দাবি, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি থানায় ফোন করেছিলেন। তখন তাঁকে জানানো হয়, জনরোষের হাত থেকে বাঁচাতেই উজ্জ্বল বিশ্বাসকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু পরে জানা যায়, তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল সাংসদ। ত্রাণচুরির অভিযোগ উড়িয়ে মহুয়া বলেন, সরকারের তরফে জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিভিন্ন সময়ে ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সেগুলি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করার কথা থাকে। ফলে অনেক সময় সেই সামগ্রী বাড়ি বা গোডাউনে মজুত রাখতে হয়। বর্ষার আগেই ত্রিপল পাঠানো হয় এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী জনপ্রতিনিধিরা তা বিলি করেন। মহুয়ার দাবি, উজ্জ্বল বিশ্বাসের কাছেও সেই ধরনের কিছু ত্রাণসামগ্রী ছিল।
মহুয়া আরও জানান, গত ৪ তারিখে সরকারের তরফে প্রাক্তন বিধায়কদের কাছে থাকা ত্রাণসামগ্রী ফেরত দেওয়ার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসনের তরফে প্রাক্তন বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা ছিল। কিন্তু তা না হওয়ায় ৮ জুন উজ্জ্বল বিশ্বাস নিজেই এসডিও এবং বিডিওর সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে দাবি মহুয়ার। তাঁর বক্তব্য, মজুত ত্রাণসামগ্রী ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মঙ্গলবার সরকারের তরফেই গাড়ি পাঠানো হয়েছিল উজ্জ্বল বিশ্বাসের বাড়িতে। সেই সময়ই পরিকল্পিতভাবে অশান্তি তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। মহুয়ার দাবি, এটি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষ নয়, বরং সব জেনেই বিজেপি কর্মীরা ইচ্ছাকৃতভাবে গোলমাল পাকিয়েছে। তৃণমূল সাংসদের কথায়, “এটা স্রেফ হেনস্তার চক্রান্ত।” উজ্জ্বল বিশ্বাসের গ্রেপ্তারিকে ঘিরে তাই নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে কৃষ্ণনগর-সহ রাজ্য রাজনীতিতে।





