বইপাড়ায় হকার উচ্ছেদের নোটিস ভুয়ো! গুজবে কান না দেওয়ার আর্জি পুর কমিশনারের
হকারদের তাড়ানোর খবর কি তবে স্রেফ গুজব? মহাবিতর্কের মাঝে বিস্ফোরক সত্যিটা ফাঁস করলেন পুর কমিশনার
Truth of Bengal: ঐতিহাসিক বইপাড়া কলেজ স্ট্রিট চত্বরে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। অবশেষে সেই যাবতীয় জল্পনা ও গুজবের অবসান ঘটাতে বৃহস্পতিবার কড়া বার্তা দিল কলকাতা পুরসভা (KMC)। এদিন পুরভবনে আয়োজিত এক হাই-ভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠকে পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কলেজ স্ট্রিটে হকার উচ্ছেদ নিয়ে পুর প্রশাসন এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং এ সংক্রান্ত কোনও সরকারি নোটিসও জারি করা হয়নি। হকার ও সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তিকর ভুয়ো খবরে কান না দেওয়ার জন্য জোরালো আবেদন জানান তিনি।
নোটিস তৈরিতে ব্যবহার হচ্ছে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’!
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে পুর কমিশনারের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার দেবেন্দ্র প্রতাপ সিংহও। স্মিতা পাণ্ডে বলেন, “বাজারের পরিবেশ নষ্ট করতে অনেক রকম গুজব রটানো হচ্ছে। হকার উচ্ছেদ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের নোটিস সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের নজরে এসেছে যে, অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে হুবহু সরকারি ধাঁচের ভুয়ো নোটিস তৈরি করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।”
কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার দেবেন্দ্র প্রতাপ সিংহও এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হকারদের সরানোর কোনও নির্দেশ বা নোটিস দেওয়া হয়নি। এই চক্রান্তের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তারক সিংয়ের পদত্যাগ ও মেয়রের চেয়ার নিয়ে বড় বয়ান
হকার ইস্যুর পাশাপাশি এদিন কলকাতা পুরসভার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ডামাডোল এবং নিকাশি বিভাগের মেয়র পরিষদ সদস্য তারক সিংয়ের পদত্যাগ নিয়ে মুখ খোলেন পুর কমিশনার। তিনি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে বলেন, “নিকাশি বিভাগের মেয়র পরিষদ সদস্য তারক সিং পদত্যাগপত্র জমা দিলেও তা এখনও গৃহীত হয়নি। পদত্যাগ করা এক বিষয়, আর পদত্যাগপত্র গৃহীত হওয়া সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। যেহেতু আইনি প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি, তাই প্রি-মনসুন বা বর্ষা-প্রস্তুতির বৈঠকে তাঁকেও সসম্মানে আমন্ত্রণ জানানো হবে।” একই সঙ্গে মেয়রের পদ নিয়ে তৈরি হওয়া সমস্ত ধোঁয়াশা উড়িয়ে দিয়ে তিনি সাফ জানান, “বর্তমানে ফিরহাদ হাকিমই কলকাতার মেয়র পদে সগৌরবে রয়েছেন।”
বর্ষার প্রস্তুতিতে বড় বদল
সামনেই বর্ষা, তাই শহরের জলনিকাশি পরিকাঠামো নিয়ে এবার বরোভিত্তিক পৃথক পৃথক বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরসভা। ইতিমধ্যেই রাজ্যস্তরে প্রস্তুতি বৈঠক সেরে ফেলা হয়েছে। পুর কমিশনার আশ্বাস দিয়েছেন, বর্ষায় শহরের কোথাও যাতে জল জমে নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত না হয়, তার জন্য পুর প্রশাসন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করতে সর্বদা প্রস্তুত।






