‘মানুষের ছদ্মবেশে সাপ’! ঋতব্রতকে আক্রমণ করেও দিলীপকে ফোন বাবুলের, ফের ফুল বদলের ইঙ্গিত?
সুখের পায়রা এবার কোন ডালে? ক্ষমতা হাতছাড়া হতেই মমতার পাশ থেকে সরছেন বাবুল?
Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এখন কার্যত মহাসংগ্রাম শুরু হয়েছে। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) একপ্রকার কোণঠাসা করে ৬০ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে ‘নতুন তৃণমূল’ গঠন করেছেন বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই চরম ডামাডোলের আবহে এবার রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের আগুন জ্বাললেন গায়ক তথা রাজনীতিবিদ বাবুল সুপ্রিয় (Babul Supriyo)। তৃণমূলের এই ঐতিহাসিক ভাঙনের রাতেই সামাজিক মাধ্যমে এক দীর্ঘ ও বিস্ফোরক পোস্ট করে ঋতব্রত শিবিরকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। তবে একই সঙ্গে বিশেষ সূত্রে খবর, বাংলায় ক্ষমতা বদলের পর পরই নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে বিজেপির শীর্ষ নেতা দিলীপ ঘোষকে ফোনও ঘুরিয়েছেন বাবুল!
“হাত-পা কেটে না ফেলে দিদি ভুল করেছেন”
নিজের পোস্টে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র খোঁচা দিয়ে বাবুল লিখেছেন, “নিজের দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পূর্ণ অধিকার আপনার আছে। কিন্তু সেই অবস্থানকে সম্মান জানাতে হলে বিধায়ক পদ থেকেও সরে দাঁড়ানো উচিত।” এরপরই বিস্ফোরক ভঙ্গিতে তিনি লেখেন, “দিদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে যারা দুর্নীতি বা সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের হাত-পা কেটে না ফেলে তিনি নিশ্চয়ই গুরুতর ভুল করেছেন। এখন তাদের অনেকেই সেই ‘৬০ জনের’ তালিকায় আছেন।”
এখানেই শেষ নয়, ঋতব্রতকে নিশানা করে বাবুলের সবচেয়ে মারাত্মক মন্তব্য, “একজন ব্যক্তি আমাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছেন! কখনও জানতাম না যে একটি সাপ মানুষের ছদ্মবেশে আমাদের সবার মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। আশা করছি বিজেপি অনেক রাজ্যের মতো এদেরকে নিজেদের দলে নেওয়ার ভুল করবে না।”
আবার কি পদ্মবনে বাবুল? আমল দিচ্ছে না বিজেপি
বাবুলের এই মন্তব্য ঘিরে যখন রাজনৈতিক মহলে চর্চা তুঙ্গে, তখনই সামনে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ২০১৪ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়ে আসানসোল থেকে দু’বারের সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়া বাবুল ২০২১ সালে মোহভঙ্গ হওয়ায় তৃণমূলে যোগ দেন। পরে বালিগঞ্জের বিধায়ক এবং ছাব্বিশে তৃণমূলের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদও হন। কিন্তু এখন তৃণমূলের ক্ষমতা হাতছাড়া হতেই নিজের আখেড় গোছাতে ফের দিলীপ ঘোষের শরণাপন্ন হয়েছেন তিনি। যদিও বিজেপি সূত্র মারফত খবর, এই ‘দলবদলু’ নেতাকে এখনই কোনওরকম আমল দিতে রাজি নয় গেরুয়া শিবির।
এই প্রসঙ্গে বাবুলের নিজের যুক্তি অবশ্য বেশ সুবিধাবাদী। তাঁর সাফ কথা, “প্রেম ও যুদ্ধে সবকিছুই ন্যায্য এবং এটা রাজনীতির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।” এক সময় নবান্নের বারান্দায় বসে মমতার গুণগান গাওয়া ‘সুখের পায়রা’ বাবুল এখন সুসময়ের শেষে বেসুরো গাইছেন দেখে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন আদি তৃণমূল কর্মীরাই। ঋতব্রতদের দল ভাঙানো যদি বাবুলের চোখে ‘ন্যায্য’ হয়, তবে ক্ষমতার অলিন্দে থাকতে বারবার তাঁর এই রঙ বদলানোকে রাজ্য রাজনীতি কোন চোখে দেখবে, সেটাই এখন বড়ো প্রশ্ন।





