ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল দক্ষিণবঙ্গবাসী, কবে মিলবে স্বস্তি?
বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় দক্ষিণবঙ্গে প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় বেশি গরম অনুভূত হবে।
Truth of Bengal: কেরলে বর্ষা প্রবেশ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে আগেভাগেই বর্ষা ঢুকে পড়লেও, কেরলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর আগমনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও করেনি মৌসম ভবন। সাধারণত ১ জুন কেরলে বর্ষা প্রবেশের নির্ধারিত সময় ধরা হয়। তবে এ বছর এখনও পর্যন্ত কবে কেরলে বর্ষা ঢুকবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা মেলেনি।
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর এবং উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের আরও কিছু অংশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু অগ্রসর হতে পারে। ফলে পূর্ব ভারতের আবহাওয়াতেও ধীরে ধীরে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
এদিকে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন দক্ষিণ ওড়িশা উপকূলে একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। পাশাপাশি বিদর্ভ থেকে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে, যা ছত্তিশগড় ও ওড়িশার ওপর দিয়ে গিয়েছে। এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতির প্রভাবে উত্তরবঙ্গে জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকেই প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি শুরু হতে পারে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে উত্তরবঙ্গে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী চার দিন তাপমাত্রা প্রায় একই রকম থাকলেও শুক্রবারের পর উত্তরবঙ্গে তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।
মঙ্গলবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং কালিম্পং জেলায় ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার থেকে ঝড়বৃষ্টির পরিমাণ এবং বিস্তার আরও বাড়তে পারে। দার্জিলিং-সহ উত্তরবঙ্গের উপরের পাঁচ জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টি শুরু হতে পারে বৃহস্পতিবার থেকে। ওই দিন আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবার আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহারে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। শনিবার দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং জলপাইগুড়ি— উত্তরবঙ্গের উপরের পাঁচ জেলাতেই ঝড়বৃষ্টি চলতে পারে।
অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গে আপাতত বড় ধরনের ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। তবে স্থানীয়ভাবে দু-এক জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়া বইতে পারে। আগামী তিন দিনের মধ্যে, অর্থাৎ বৃহস্পতিবারের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি আরও বাড়বে।
বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় দক্ষিণবঙ্গে প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় বেশি গরম অনুভূত হবে। অর্থাৎ ‘ফিল লাইক’ তাপমাত্রা অনেকটাই বেশি থাকতে পারে। এর ফলে দিনের বেলা অস্বস্তিকর আবহাওয়া তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কলকাতায় আজ মূলত পরিষ্কার আকাশ থাকবে। কখনও কখনও আকাশ আংশিক মেঘলা হতে পারে। রোদের তেজ বাড়বে এবং তাপমাত্রাও সামান্য ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। চলতি সপ্তাহে কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঘোরাফেরা করতে পারে।
সোমবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় সামান্য বেশি। রবিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৫২ থেকে ৯৫ শতাংশের মধ্যে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় কলকাতার তাপমাত্রা ২৮ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে।






