কলকাতা

ভোটের ২৬ দিন পর বেলেঘাটার নিহত কর্মীর পরিবারের পাশে অভিষেক, দেরিতে বেরনো নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন

নিহত কর্মীর পাশে দাঁড়াতে কেন ২৬ দিন সময় নিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড?

Truth of Bengal: গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর অবশেষে রাজপথে বা জনসংযোগে দেখা গেল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ফলপ্রকাশের রাতেই আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছিল বেলেঘাটার তৃণমূল কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়েকের। ঠিক ২৬ দিন পর, শনিবার বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতে গিয়ে ওই নিহত দলীয় কর্মীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করলেন অভিষেক। তিনি পরিবারের লোকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন, তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন এবং আইনি লড়াইয়ে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেন। তবে এই সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করে ইতিবাচক বার্তার পাশাপাশি দলের অন্দরেই এক বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— নিহত কর্মীর পাশে দাঁড়াতে কেন ২৬ দিন সময় নিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড?

৪ মে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার রাতে বেলেঘাটার তৃণমূল কর্মী বিশ্বজিৎ পট্টনায়েককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছিল। পরদিন সকালে বাড়ির সামনেই তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়েছিল, এটিই এই নির্বাচনের পর রাজ্যে ‘ভোট পরবর্তী হিংসা’র প্রথম ঘটনা। যদিও রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর নতুন বিজেপি সরকার এই দাবি খণ্ডন করে জানায়, বিশ্বজিতের মৃত্যুর ঘটনাটি আদতে আত্মহত্যা, এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক হিংসা বা খুন ছিল না।

২০২৬-এর এই হাইপ্রোফাইল নির্বাচনে রাজ্যের ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৮টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। অন্যদিকে মাত্র ৮০টি আসন পেয়ে ধরাশায়ী হয়েছে প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটের পর থেকেই রাজ্য জুড়ে একাধিক জেলায় তৃণমূল কর্মীদের আক্রান্ত হওয়া, পার্টি অফিস ভাঙচুর বা হাতছাড়া হওয়ার খবর আসছিল। এই কঠিন পরিস্থিতিতে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার নির্দেশ দিয়েছিলেন, দলের দুঃসময়ে কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং রাজপথের আন্দোলন জারি রাখতে হবে। নেত্রীর সেই বার্তার পরও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কেন দীর্ঘ ২৬ দিন কার্যত অন্তরালে ছিলেন, তা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই ক্ষোভ ও চোরাস্রোত তৈরি হয়েছে। দলের একাংশের প্রশ্ন, যেখানে কর্মীদের মনোবল ভাঙা, সেখানে দলের প্রধান সেনাপতি এতদিন বাইরে বেরোলেন না কেন? শনিবার কুণাল ঘোষের বাড়িতে বিশ্বজিতের পরিবারের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ মূলত সেই ক্ষোভ প্রশমন এবং কর্মীদের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে এই ২৬ দিনের ‘নীরবতা’র কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেল।

Related Articles