ইন্দ্রনীলের শোচনীয় হারের জের! ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান-সহ ৮ তৃণমূল কাউন্সিলরের ইস্তফা
ক্ষমতা বদলের ধাক্কায় চুরমার ঘাসফুল শিবির, নৈতিক দায় নিয়ে স্বেচ্ছায় পদ ছাড়লেন ইন্দ্রনীল-ঘনিষ্ঠ পুরপ্রধান!
রাকেশ চক্রবর্তী, হুগলি: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন ও ইস্তফার হিড়িক অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই রাজনৈতিক পালাবদলের বড়সড় ধাক্কা লাগল হুগলি জেলার ভদ্রেশ্বর পুরসভায়। চন্দননগরের বিদায়ী হেভিওয়েট মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা ইন্দ্রনীল সেনের শোচনীয় পরাজয়ের পর ভদ্রেশ্বরের রাজনৈতিক সমীকরণ রাতারাতি বদলে গেল। বৃহস্পতিবার পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার (EO)-র কাছে সশরীরে গিয়ে নিজেদের পদত্যাগপত্র জমা দিলেন ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী-সহ মোট ৮ জন তৃণমূল কাউন্সিলর। হুগলি জেলায় এই প্রথম কোনো পুরসভার বোর্ড এভাবে বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়ল।
ইন্দ্রনীলের ভোট রাজনীতি ত্যাগের পরই প্রলয়ের ইস্তফা
কাকতালীয়ভাবে, বুধবারই চন্দননগরের বিদায়ী বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেন রাজনীতিতে থাকার কথা বললেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি আর কোনওদিন ভোট রাজনীতি বা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। ভোট রাজনীতি নিয়ে তাঁর মোহভঙ্গ হয়েছে। আর তার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ভদ্রেশ্বর পুরসভার পুরপ্রধান প্রলয় চক্রবর্তীর এই ইস্তফা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
২২টি ওয়ার্ডের ভদ্রেশ্বর পুর এলাকায় এবারের নির্বাচনে বিপুল ভোটে পিছিয়ে ছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। চন্দননগর বিধানসভায় সামগ্রিকভাবে তিনি ১৩ হাজার ভোটে পরাজিত হন। দলের এই ভরাডুবির পর নৈতিক দায় স্বীকার করেই প্রলয় চক্রবর্তী পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে খবর। তবে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর প্রলয়বাবু জানান, “আমাকে বিজেপি বা তৃণমূল, কোনও পক্ষই পদ ছাড়ার জন্য চাপ দেয়নি। রাজ্যে নতুন সরকার মানুষের রায় নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তারা কাজ করুক। আমি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিয়েছি।”
“জনরোষের ভয়েই ইস্তফা”, কটাক্ষ বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জনের
ভদ্রেশ্বর পুরসভার এই নাটকীয় পতন নিয়ে চন্দননগরের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ তীব্র কটাক্ষ শানিয়েছেন। তিনি বলেন, “তৃণমূলের জমানায় মানুষ ন্যুনতম নাগরিক পরিষেবা পায়নি। সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ জমেছিল। এখন রাজ্যে ক্ষমতা বদল হতেই জনরোষের ভয়ে তাঁদের ‘অন্তরাত্মা জাগ্রত’ হয়েছে এবং তাঁরা চেয়ার ছাড়ছেন।”
তৃণমূল সূত্রের দাবি, ৮ জন কাউন্সিলর একসঙ্গে ইস্তফা দিলেও ভদ্রেশ্বর পুরবোর্ড ভেঙে পড়ার কোনও আশঙ্কা নেই। বর্তমানে ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ খানের নেতৃত্বেই বাকি কাউন্সিলরদের নিয়ে পুরবোর্ডের কাজ সচল রাখা হবে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেভাবে একের পর এক পুরসভায় তৃণমূলের প্রতিনিধিরা পদ ছাড়ছেন, তাতে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে তৈরি হওয়া তীব্র মনস্তাত্ত্বিক পরাজয় ও সাংগঠনিক বিপর্যয়ই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।






