তৃণমূলে অব্যাহত ইস্তফার পালা! এবার অভিষেককে ইমেল পাঠিয়ে মুখপাত্রের পদ ছাড়লেন অরূপ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি ইমেল পাঠিয়ে তিনি নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান।
Truth of Bengal: তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র ডাঃ শান্তনু সেনের পদত্যাগের পর, এবার দলের অন্দরে ভাঙন আরও চওড়া করে মুখপাত্রের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা নাগাদ দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি ইমেল পাঠিয়ে তিনি নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান। ইমেলে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন যে, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণেই তিনি এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন। তবে যত দিন কাজ করেছেন, তত দিন সংবাদমাধ্যম ও জনগণের সামনে দলের ভাবধারা, মূল্যবোধ এবং দর্শনকে সততার সঙ্গে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন বলে জানান ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডের এই কাউন্সিলর। একই সঙ্গে দল তাঁর ওপর যে ভরসা রেখেছিল এবং দায়িত্ব দিয়েছিল, তার জন্য শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি বিশেষ ‘কৃতজ্ঞতা’ প্রকাশ করেছেন তিনি।
দলীয় মুখপাত্রের পদ ছাড়ার ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ বুধবারই কলকাতার পুরসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন অরূপ চক্রবর্তী। তিনি পুরসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্য পদ থেকে পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। সেই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের ১২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষ, যিনি নিজেও নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। পুর আধিকারিকদের কাছে চিঠি দেওয়ার পর দু’জনে যৌথভাবে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘরে গিয়েও পদত্যাগপত্র সঁপে আসেন। তবে পুরসভার প্রশাসনিক পদ থেকে ইস্তফা দিলেও, তাঁরা যে এখনই নিজেদের কাউন্সিলর পদ ছাড়ছেন না, সে কথা দু’জনেই পরিষ্কার করে দিয়েছেন।
পুরসভার পদ ছাড়ার পর একটি সাংবাদিক বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দিয়ে অরূপ চক্রবর্তী বলেছিলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে দলের এই বিপর্যয়কর ফল কোনওভাবেই কাম্য ছিল না। তবে গণতন্ত্রে মানুষের রায়কে মাথা পেতে নিতেই হবে, কারণ হার স্বীকার করতে না পারলে অতীতের জয়গুলো মিথ্যা হয়ে যায়। দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ভোটের পর দলের সাধারণ কর্মীরা এখন তীব্র বিপদে রয়েছেন; অথচ এতদিন যাঁরা মন্ত্রী ছিলেন এবং দলের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছিলেন, সঙ্কটের এই সময়ে তাঁরা এখন কোথায়? তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর চব্বিশ ঘণ্টাও কাটেনি, তার আগেই এবার তৃণমূলের মুখপাত্র পদ থেকেও ইস্তফা দিয়ে দল তথা শীর্ষ নেতৃত্বকে চরম অস্বস্তিতে ফেললেন অরূপ চক্রবর্তী।





