রাজ্যের খবর

ভোটের দিনই রাজপ্রাসাদে ঝুুলছে তালা! কোথায় গা ঢাকা দিলেন ফলতার ডন ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির?

প্রাসাদোপম বাড়ি শুনশান, দলীয় অফিসে তালা! জাহাঙ্গিরের খাসতালুকে প্রথমবার বুক ফুলিয়ে ভোট দিচ্ছেন ফলতাবাসী

Truth of Bengal: ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের শ্রীরামপুর এলাকা। পাড়ার রাস্তা দিয়ে কিছুটা এগোলেই চোখে পড়ে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানের সেই বিলাসবহুল প্রাসাদোপম বাড়ি। দোতলা বাড়ির বেশ কিছুটা অংশের নির্মাণকাজ এখনও অসমাপ্ত, দেওয়ালে প্লাস্টার থাকলেও বসেনি রঙের পোঁচ। একটা সময়ে যে বাড়ির সামনে দিন-রাত নেতা-কর্মী আর অনুগামীদের ভিড়ে গমগম করত, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সেই বাড়ির সামনে থমথমে পরিবেশ। ‘জাহাঙ্গির ভাই বাড়ি আছেন?’ বলে বারবার হাঁকডাক করলেও ভেতর থেকে মেলেনি কোনও সাড়াশব্দ। ফলতার এই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা ঠিক কোথায় আছেন, তা নিয়ে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন খোদ প্রতিবেশীরাও।

যে অফিস থেকে চলত ‘খেলা’, আজ সেখানে শুধুই শূন্যতা

জাহাঙ্গিরের বাড়ির গলি থেকে বেরোলেই মাত্র দু’মিনিটের হাঁটা পথ। সেখানেই রয়েছে তাঁর মূল দলীয় কার্যালয়। প্রতিবার নির্বাচন চলাকালীন এই অফিস থেকেই পুরো ফলতা জুড়ে ভোট পরিচালনার রাশ নিজের হাতে রাখতেন জাহাঙ্গির। কোন বুথে কারা থাকবেন, কোন এজেন্টের কী ভূমিকা হবে, সব ঠিক হত এই ঘর থেকেই। কিন্তু আজ সেই অফিস সম্পূর্ণ জনমানবহীন এবং দরজায় ঝুলছে এক মস্ত তালা। এক প্রতিবেশী আমতা আমতা করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “উনি হয়তো বাড়ির ভেতরেই আছেন। বাড়ি থেকে বেরিয়ে কোথাও গেলে তো আমরা দেখতে পেতাম। তবে ভেতরে আছেন কি না, সেটা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল।”

“এতদিন মৃত মায়ের নামেও ভোট পড়ত!”

জাহাঙ্গির খান শ্রীরামপুর পশ্চিম দুর্গাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বুথের ভোটার। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সেই বুথে কোনও রকম রিগিং বা অশান্তি ছাড়াই নির্বিঘ্নে ভোটগ্রহণ চলছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় বুথ থেকে বেরিয়ে এক প্রবীণ ভোটার ক্ষোভে ফেটে পড়ে বলেন, “এখানে দীর্ঘদিন আমরা নিজের ভোট নিজে দিতে পারতাম না। ভোট দিতে আসলেই জাহাঙ্গিরের ছেলেরা বলত, ‘আপনার ভোট হয়ে গিয়েছে, বাড়ি যান’। শুধু তাই নয়, আমার মৃত মায়ের নামেও প্রতিবার এখানে জাল ভোট পড়ে যেত! কী আর বলব? নতুন সরকারের আমলে আজ অন্তত ভাল এবং শান্তিতে ভোট দিতে পারছি।” তবে জাহাঙ্গিরের ভয়ে আতঙ্কিত অন্য এক ভোটার অবশ্য পাশ কাটিয়ে বলেন, “আমাদের এই বুথে কোনওদিন গোলমাল হয়নি, অন্য কোথায় কী হত তা বলতে পারব না।” সব মিলিয়ে, ‘পুষ্পা’ অন্তর্ধানে যেতেই ফলতায় আজ গণতন্ত্রের নতুন সূর্যোদয় দেখছেন সাধারণ মানুষ।

Related Articles