আর চলবে না জুলুম! বেআইনি টোল প্লাজা ও ড্রপ গেট বন্ধের কড়া নির্দেশ রাজ্য সরকারের
কোথাও কোনও অবৈধ টোল বা ড্রপ গেট রাখা যাবে না। অবিলম্বে সেগুলো বন্ধ করতে হবে।
Truth of Bengal: রাজ্যে বেআইনি টোল প্লাজা ও ড্রপ গেট বন্ধে নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ করল নবান্ন। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বেআইনি কারবার রুখতে জেলা প্রশাসনগুলোকে কড়া নির্দেশিকা পাঠালেন নতুন মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল। সরকারি নির্দেশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জাতীয় সড়ক বা রাজ্য সড়ক— কোথাও কোনও অবৈধ টোল বা ড্রপ গেট রাখা যাবে না। অবিলম্বে সেগুলো বন্ধ করতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় রাস্তার ওপর ড্রপ গেট বসিয়ে অবৈধভাবে টাকা তোলার অভিযোগ উঠছিল। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে পণ্যবাহী গাড়ির চালকরাও এই জুলুমের শিকার হতেন বলে অভিযোগ। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে এই নিয়ে সরব হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তুলে আসছিল বিরোধীরা। তবে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতির প্রশ্নে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও ধরনের দুর্নীতি বা তোলাবাজি বরদাস্ত করা হবে না।

মুখ্যসচিবের দপ্তর থেকে জারি করা নির্দেশিকায় জেলাশাসকদের জানানো হয়েছে, তাঁদের এলাকায় কতগুলো বৈধ এবং কতগুলো অবৈধ টোল সংগ্রহ কেন্দ্র রয়েছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে হবে। এই তালিকা আগামী ১৫ মে দুপুর ১২টার মধ্যে আন্ডার সেক্রেটারির কাছে জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চিহ্নিত অবৈধ কেন্দ্রগুলো দ্রুত ভেঙে ফেলার পাশাপাশি যারা এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের এই নির্দেশিকায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু বর্তমান কেন্দ্রগুলো বন্ধ করাই নয়, ভবিষ্যতে যাতে নতুন করে কোথাও এমন কোনও অবৈধ ড্রপ গেট বা টোল প্লাজা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। প্রশাসনিক স্তরের এই তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপে রাজ্যে অবৈধ অর্থ সংগ্রহ এবং রাস্তার ওপর তোলাবাজি অনেকটাই বন্ধ হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।






