অযোগ্য শিক্ষকদের বেতন ফেরাতে হবে সুদ-সহ! কড়া নির্দেশ শিক্ষা দফতরের
২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে সুপ্রিম কোর্ট ২৫ হাজার ৭৩৫ জনের প্যানেল বাতিল করার ঐতিহাসিক নির্দেশ দিয়েছিল।
Truth of Bengal: রাজ্যে পালাবদলের পরেই এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করল নতুন সরকার। বিশেষ করে শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতির ‘ঘুঘুর বাসা’ ভাঙতে এবার আটঘাট বেঁধে নামা হয়েছে। অর্থের বিনিময়ে বা সাদা খাতা জমা দিয়ে যাঁরা বেআইনিভাবে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদের কাছ থেকে সুদ-সহ বেতন ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্কুল শিক্ষা দপ্তর। এই মর্মে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসককে চিঠি পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা দপ্তরের সিনিয়র স্পেশাল সেক্রেটারির পাঠানো এই চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই কার্যত ঘুম উড়েছে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হওয়া সেইসব শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের।
২০১৬ সালের এসএসসি (SSC) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে সুপ্রিম কোর্ট ২৫ হাজার ৭৩৫ জনের প্যানেল বাতিল করার ঐতিহাসিক নির্দেশ দিয়েছিল। এর মধ্যে নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির ১৮ হাজার ৪১৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ছিলেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই ও তদন্তের পর দেখা যায়, প্রায় ১৮০৬ জন পরীক্ষার্থী সম্পূর্ণ অযোগ্য হওয়া সত্ত্বেও ওএমআর (OMR) শিট কারচুপি করে চাকরি পেয়েছেন। এমনকি ভূগোলের এক পরীক্ষার্থী মাত্র ১২টি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে মেধাতালিকায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন, এমন চাঞ্চল্যকর তথ্যও সামনে এসেছিল। ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, এই অযোগ্যদের পাওয়া বেতন সুদ-সহ ফেরত নিতে হবে। তবে এতদিন সেই নির্দেশ কার্যকর না হলেও, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই বিষয়টি নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে।
জেলাশাসকদের পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ২০১৬-র প্যানেলে থাকা অযোগ্যদের বেতন পুনরুদ্ধারের কাজ দ্রুত শুরু করতে হবে। যদিও ঠিক কী পদ্ধতিতে বা কতদিনের মধ্যে এই বিশাল পরিমাণ টাকা আদায় করা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনও জানানো হয়নি। উল্লেখ্য, অযোগ্যদের যে তালিকা কয়েক বছর আগে সামনে এসেছিল, তাতে শাসকদলের একাধিক প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠদের নাম ছিল বলে অভিযোগ। এবার তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই আইনি পথে টাকা আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। নতুন সরকারের এই ‘অ্যাকশন’ কার্যত বুঝিয়ে দিল যে, দুর্নীতির প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না।






