কলকাতারাজ্যের খবর

কালবৈশাখী নয়, ধেয়ে আসছে তাপপ্রবাহ! দক্ষিণবঙ্গের ৬ জেলায় জারি সতর্কতা

পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে এখনই তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে।

Truth Of Bengal: আগামী ৪৮ ঘণ্টায় রাজ্যের তাপমাত্রার পারদ এক ধাক্কায় অনেকটা চড়তে চলেছে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। আজ থেকেই পশ্চিমবঙ্গজুড়ে তীব্র গরমের একটি নতুন স্পেল বা পর্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, গত দু-দিনের তুলনায় আজ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে আগামী চার দিনে তাপমাত্রা ধাপে ধাপে আরও ৪ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে, যার ফলে দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলীয় জেলাগুলোতে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি চরম আকার ধারণ করবে, যেখানে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশের ঘরে ঘোরাফেরা করবে।

আজ ২ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের মতো জেলাগুলোতে গরমের দাপট বেশি অনুভূত হবে। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে এখনই তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। আগামী শনিবার পর্যন্ত এই শুষ্ক ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি বজায় থাকবে এবং প্রায় সব জেলাতেই পারদ ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়ে ফেলতে পারে। তবে রবিবার ৫ এপ্রিল পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ার মতো দু-এক জায়গায় হালকা বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির কিছুটা সম্ভাবনা থাকলেও বাকি জেলাগুলো শুষ্কই থাকবে।

উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার চিত্রটি কিছুটা ভিন্ন হলেও গরম সেখানেও বাড়বে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে বৃষ্টির পরিমাণ কমবে এবং অধিকাংশ জায়গায় শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করবে। তবে উপরের দিকের পাঁচটি জেলায় মাঝেমধ্যে বজ্রপাত-সহ হালকা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের জেলাগুলো মূলত শুষ্কই থাকবে, তবে বিক্ষিপ্তভাবে সামান্য বৃষ্টি হতে পারে।

কলকাতার আবহাওয়া সংক্রান্ত গত দিনের রেকর্ডে দেখা গেছে, বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.০৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫.০৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে সর্বোচ্চ আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৯৬ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছিল। আজ থেকে সেই অস্বস্তি আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

Related Articles