কেড়ে নেওয়া হল অভিষেকের জেড প্লাস নিরাপত্তা, মুখ্যমন্ত্রী হয়েই বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর
পাহাড়প্রমাণ নিরাপত্তা ছেঁটে ফেলল নবান্ন! মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম বৈঠকেই ‘টার্গেট’ অভিষেক
Truth of Bengal: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নবান্নে পা রেখেই একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার প্রশাসনের শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের নিয়ে বৈঠকের পর সবচেয়ে বড় কোপ পড়ল তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ভোগ করা অভিষেকের ‘জেড প্লাস’ (Z+) নিরাপত্তা এক ধাক্কায় তুলে নিল রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে খবর, এখন থেকে একজন সাধারণ সাংসদ হিসেবে যতটা নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, সেটুকুই পাবেন অভিষেক।
কেন এত নিরাপত্তা? প্রশ্ন তুলেছিলেন শুভেন্দু
তৃণমূল জমানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেবল একজন সাংসদ হওয়া সত্ত্বেও ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের চেয়েও বেশি নিরাপত্তা পেতেন। তাঁর দক্ষিণ কলকাতার বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’ কার্যত এক দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়েছিল। ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস থেকে শুরু করে হরিশ মুখোপাধ্যায় রোডের বাড়ি, সব জায়গাই পুলিশি নিরাপত্তায় মোড়া থাকত। সোমবার নবান্নে ভিআইপিদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত পর্যালোচনায় এই বিষয়টি তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশ্ন ওঠে, কোন যুক্তিতে একজন সাংসদ এই বিপুল সরকারি নিরাপত্তা পাবেন?
অ্যাকশন মোডে নবান্ন
বৈঠকের পরেই আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয় অভিষেকের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে। প্রশাসনিকভাবে জানানো হয়, আইনগতভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জেড প্লাস ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন না। ফলত, প্রোটোকল বহির্ভূত এই বাড়তি সুরক্ষা অবিলম্বে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে সরকার বদলের ঠিক পরেই তাঁর বাড়ির সামনে থেকে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এবার সরকারিভাবে তাঁর ভিভিআইপি তকমাও মুছে গেল।
ক্যামাক স্ট্রিট থেকে শান্তিনিকেতন, বদলে গেল ছবি
অভিষেক যখনই কোনো কর্মসূচিতে যেতেন, তাঁর আগে-পিছে থাকত পুলিশের বড় কনভয়। এই বিপুল ঘেরাটোপের কারণে সাধারণ মানুষের অনেক সময় সমস্যা হতো বলেও অভিযোগ উঠত। শুভেন্দু অধিকারীর এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে পাইলট কার বা অত্যাধিক কমান্ডো বাহিনী আর পাবেন না অভিষেক। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনিক ব্যয় কমাতে এবং ভিআইপি সংস্কৃতি কালচার বন্ধ করতেই শুভেন্দুর এই কড়া পদক্ষেপ।
নবান্নের এই নির্দেশের পর তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে শুভেন্দু জমানার প্রথম দিনেই এই পদক্ষেপ বুঝিয়ে দিচ্ছে, আগামী দিনে প্রশাসনের রাশ কতটা শক্ত হতে চলেছে।





