রবীন্দ্র জয়ন্তীর অনুষ্ঠান থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘যৌথ মঞ্চ’ গড়ার ডাক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
ক্ষমতা হস্তান্তরের পর প্রথমবার বিজেপি বিরোধী সমস্ত শক্তিকে একজোট হওয়ার খোলা আহ্বান জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
Truth of Bengal: বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নজিরবিহীন দিনে একদিকে যখন উৎসবের আমেজ, অন্যদিকে তখন তৈরি হলো এক নতুন সমীকরণের পটভূমি। শনিবার ব্রিগেডের বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, জেপি নাড্ডা এবং নিতিন নবীনের উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী ও নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। তবে এই রাজকীয় শপথগ্রহণের দিনেই কালীঘাটের বাসভবনে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করার সময় সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর শোনা গেল তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে।
ক্ষমতা হস্তান্তরের পর প্রথমবার বিজেপি বিরোধী সমস্ত শক্তিকে একজোট হওয়ার খোলা আহ্বান জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, বিজেপিকে রুখতে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত ‘ইগো’ বা অহংবোধ নেই। বাম, অতিবাম থেকে শুরু করে সমস্ত ছাত্র-যুব সংগঠন এবং এনজিও-দের নিয়ে একটি শক্তিশালী ‘যৌথ প্ল্যাটফর্ম’ বা মঞ্চ গড়ার প্রস্তাব দেন তিনি। মমতার কথায়, “বিজেপি আমাদের এক নম্বর রাজনৈতিক শত্রু। তাই যারা বিজেপি বিরোধী, এমনকি বামপন্থী বা অতিবামপন্থী দলগুলোকেও বলব—আসুন আমরা একজোট হই। আমি বিকেল ৪টে থেকে ৬টা পর্যন্ত অফিসে থাকব, কেউ চাইলে আলোচনার জন্য সরাসরি আসতে পারেন।”
এদিন রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে সরব হন তৃণমূলনেত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, ‘দেশ বাঁচাও গণতান্ত্রিক মঞ্চ’-এর ব্যানারে কালীঘাট মোড়সহ তিনটি জায়গায় অনুষ্ঠান করার অনুমতি চাওয়া হলেও তা দেওয়া হয়নি। এমনকি তাঁর নিজের বাড়িতে অনুষ্ঠান করার ক্ষেত্রেও বাধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। রবীন্দ্রজয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে দাঁড়িয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের অভিযোগ তুলে আগামী দিনে এক বৃহত্তর আন্দোলনের ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন।






