কলকাতা

বিস্ফোরক ফিরহাদ-কন্যা! সোশাল মিডিয়ায় ‘ধৃতরাষ্ট্র’-র প্রসঙ্গ টেনে কাকে বিঁধলেন প্রিয়দর্শিনী হাকিম?

সামাজিক মাধ্যমে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টে তিনি রামায়ণ ও মহাভারতের প্রসঙ্গ টেনে দলের বর্তমান পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেছেন।

Truth of Bengal: বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অভাবনীয় বিপর্যয়ের পর দলের অন্দরে জমে থাকা ক্ষোভ এবার আগ্নেয়গিরির মতো ফাটতে শুরু করেছে। বিশেষ করে তৃণমূলের ‘কর্পোরেট কালচার’ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে দলের একাংশ যখন সরব, ঠিক তখনই জল্পনা উসকে দিলেন কলকাতা পুরসভার মেয়র তথা বিদায়ী মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিম। সামাজিক মাধ্যমে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টে তিনি রামায়ণ ও মহাভারতের প্রসঙ্গ টেনে দলের বর্তমান পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, সরাসরি নাম না নিলেও প্রিয়দর্শিনী আসলে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ‘স্বজনপোষণ’ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি অন্ধ আনুগত্যকেই এই ভরাডুবির কারণ হিসেবে কাঠগড়ায় তুলেছেন।

প্রিয়দর্শিনী তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “মহাভারতের মহাযুদ্ধের প্রধান কারণ ছিল দুর্যোধনের প্রতি ধৃতরাষ্ট্রের অন্ধ প্রেম ও পক্ষপাতিত্ব।” এখানেই থেমে না থেকে তিনি রামরাজ্যের পতনের উদাহরণ টেনে মা সীতার নির্বাসনের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা—কারও প্রতি নীতিহীন বা অন্ধ আনুগত্য শুভ ফল আনে না। তিনি সতর্ক করে লিখেছেন, “চোখে ঠুলি বেঁধে থেকো না, কান দিয়ে দেখো না।” ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের অন্দরে যখন অস্তিত্বের সংকট দেখা দিয়েছে, তখন ফিরহাদ-কন্যার এই ‘বিস্ফোরক’ মন্তব্য যেন ঘাসফুল শিবিরের ক্ষোভে ঘৃতাহুতি দিল।

উল্লেখ্য, ফিরহাদ হাকিম ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যকার শীতল সম্পর্ক রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিনের চর্চার বিষয়। বিশেষ করে দলের ‘বয়সসীমা’ বা ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি নিয়ে ফিরহাদ বারবার সরব হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে তৃণমূল ধরাশায়ী হলেও, কলকাতা বন্দর আসন থেকে বিজেপি প্রার্থী রাকেশ সিংকে হারিয়ে নিজের গড় অক্ষুণ্ণ রেখেছেন ফিরহাদ। কিন্তু দলের এই মহাবিপর্যয়ের জন্য যখন দলের নিচুতলার কর্মী থেকে শীর্ষ নেতারা একে অপরকে দোষারোপ করছেন, তখন ৫ নেতাকে ইতিমধ্যেই শোকজ করেছে তৃণমূল।