রাজ্যের খবর

বিশ্বভারতীতে ঝালমুড়ি হাতে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান, ভিডিও ভাইরাল হতেই গবেষণারত ছাত্রকে তলব

গবেষণারত ছাত্র অধ্যাপকের ঘরে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি তুলে ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও পোস্ট, দ্রুত পদক্ষেপ নিল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ

সৌতিক চক্রবর্তী, বোলপুর: শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক গবেষণারত ছাত্রের সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক। অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র দেবব্রত বিশ্বাসের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গরিমা ক্ষুণ্ণ করে এবং রাজনৈতিক ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে তিনি এই ভিডিওটি তৈরি করেছেন।

ভিডিওতে কী ছিল?

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, দেবব্রত বিশ্বাস গেরুয়া উত্তরীয় পরে অধ্যাপকদের একটি ঘরে বসে রয়েছেন। হাতে ঝালমুড়ির ঠোঙা নিয়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আমাদের বাংলার বিখ্যাত ঝালমুড়ি, যে ঝালমুড়িতে সরকার বদল হয়েছে। আমরাও আজকে সেই ঝালমুড়ির ট্রেন্ডটা চালু করছি। আমাদের বিশ্বভারতীতেও এখন বেশ কিছু পরিবর্তন হতে চলেছে।” শুধু তাই নয়, ভিডিওর শেষে উপস্থিত আরও কয়েকজনকে সমস্বরে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতেও শোনা যায়।

কর্তৃপক্ষের কড়া পদক্ষেপ ও মুচলেকা

ভিডিওটি নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে ক্ষোভ তৈরি হলে তড়িঘড়ি ওই ছাত্রকে ডেকে পাঠানো হয়। জানা গিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ‘বিতর্কিত’ বা রাজনৈতিক ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট না করার শর্তে দেবব্রতর থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। এরপরই তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে বিতর্কিত ভিডিওটি মুছে ফেলেন।

বিশ্বভারতীর প্রতিক্রিয়া

বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ সাফ জানিয়েছেন, “বিশ্বভারতী একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে কোনও বিতর্কিত রাজনৈতিক পোস্ট বা সংস্কৃতি বরদাস্ত করা হয় না। বিভাগীয় প্রধান ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।” কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা বজায় রাখতেই এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ।

বিতর্কের প্রেক্ষাপট

পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বভারতীর আচার্য স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সম্প্রতি বাংলার রাজনীতিতে ‘ঝালমুড়ি’ নিয়ে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে নানা প্রতীকী লড়াই ও প্রচার দেখা গিয়েছে। সেই ঝালমুড়িকে অস্ত্র করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে ‘পরিবর্তন’-এর ডাক দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন মেরুকরণ। শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে রাজনৈতিক চর্চা নতুন নয়, তবে অধ্যাপকের ঘরকে এ ধরনের ভিডিওর জন্য ব্যবহার করা কাম্য নয়।

Related Articles