রাজের হারের পরেই প্রাক্তন বিধায়ককে ‘ধান্দাবাজ’ বলে তোপ তৃণমূল নেতার
নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, বিজেপির কৌস্তভ বাগচীর কাছে প্রায় ১৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন রাজ চক্রবর্তী।
Truth of Bengal: বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের শক্তিশালী দুর্গে পদ্ম ফোটানো আটকাতে ব্যর্থ হয়েছেন তারকা বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী। আর এই পরাজয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই পরাজিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন দলেরই প্রবীণ নেতা তথা বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান উত্তম দাস। রাজ চক্রবর্তীকে সরাসরি ‘ধান্দাবাজ’ ও ‘বহিরাগত’ বলে কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেছেন যে, গত পাঁচ বছর রাজ এলাকায় রাজনীতির বদলে সিনেমাতে লোক ঢোকানোর ব্যবসা ফেঁদে বসেছিলেন। কামারহাটি বাদে বারাকপুর মহকুমার বাকি সব আসনে ঘাসফুল শিবিরের বিপর্যয়ের জন্য তিনি রাজের এই ‘সিনেমা-সংস্কৃতি’ ও বাণিজ্যিক মনোভাবকেই দায়ী করেছেন।
নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, বিজেপির কৌস্তভ বাগচীর কাছে প্রায় ১৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন রাজ চক্রবর্তী। এই ফলের পরই উত্তম দাসের বিস্ফোরক অভিযোগ, রাজ রাজনীতি এবং গ্ল্যামার জগতকে গুলিয়ে ফেলেছিলেন। তাঁর দাবি, রাজ কেবল নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিলেন এবং এলাকায় পুরনো কর্মীদের গুরুত্ব না দিয়ে নব্যদের প্রাধান্য দিয়েছেন। ১৯৯৮ সাল থেকে দলের জন্য লড়াই করা কর্মীদের বঞ্চিত করার মাশুলই এবার দলকে গুনতে হয়েছে বলে মনে করছেন এই প্রবীণ নেতা। তাঁর মতে, মানুষ রাজের এই ‘ব্যবসায়িক রাজনীতি’ মেনে নেয়নি বলেই বারাকপুরে তৃণমূলের এই ভরাডুবি।
ভোটের ফল প্রকাশের দিন রাজ চক্রবর্তী যখন গণনা কেন্দ্র থেকে বের হচ্ছিলেন, তখনই তাঁকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল, এমনকি কাদা ও জুতো পর্যন্ত ছোড়া হয়। সে সময় রাজ নিজেকে সংযত রাখলেও এখন দলের অন্দরের বিদ্রোহ তাঁর অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল। বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যানের এই কড়া আক্রমণ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, হারের পর তৃণমূলের অন্দরে জমে থাকা ক্ষোভ এখন আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ছে। রাজের মতো তারকা প্রার্থীদের রাজনীতিতে আসা এবং তাঁদের কার্যপদ্ধতি নিয়ে দলের পুরনো নেতাদের এই বিরোধ আগামী দিনে বারাকপুরের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।





