খেলা

নতুন গেমসের স্বপ্ন, অথচ মেটেনি ১৫ বছর আগের দেনা! ২০১০ কমনওয়েলথের বোঝা বইছে কেন্দ্র

প্রায় দেড় দশক পেরিয়েও সেই গেমসের আর্থিক জটিলতা আজও রয়ে গিয়েছে।

Truth of Bengal: সামনে ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস। দুই দশক পর আবারও এই বিশাল ক্রীড়া আসরের আয়োজক হতে চলেছে ভারত। নতুন স্বপ্ন, নতুন পরিকল্পনায় এগোচ্ছে দেশ, কিন্তু সেই পথেই সামনে এসে পড়েছে অতীতের এক অস্বস্তিকর সত্য—২০১০ সালের দিল্লি কমনওয়েলথ গেমসের আর্থিক দায় এখনও পুরোপুরি মেটেনি। তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসা তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও ওই আসরের বকেয়া বাবদ ২৮.০৫ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারকে। অর্থাৎ, প্রায় দেড় দশক পেরিয়েও সেই গেমসের আর্থিক জটিলতা আজও রয়ে গিয়েছে।

ভারত ইতিমধ্যেই ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে, যার আসর বসবে আমদাবাদে। শুধু তাই নয়, একই শহরকে সামনে রেখে ২০৩৬ অলিম্পিক্স আয়োজনের লক্ষ্যে বিড করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩৮ এশিয়ান গেমস আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। অর্থাৎ, আগামী এক দশকে একাধিক আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দু হতে চায় ভারত। কিন্তু এই উচ্চাভিলাষের মাঝেই পুরোনো দেনার চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম সংস্থা এমটিএনএলকে ২৮ কোটির বেশি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, যা ওই পুরনো হিসেবেরই অংশ। পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২২ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত ২০১০ গেমস-সংক্রান্ত ২৯টি মামলা এখনও বিচারাধীন। এর মধ্যে ২৪টি মামলাই বিভিন্ন সরবরাহকারী বা ঠিকাদারি সংস্থার সঙ্গে জড়িত, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকার একটি পক্ষ। ফলে মোট দায়ের অঙ্ক এখনও নির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না।

সংসদীয় এক কমিটির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বাকি দায় মেটাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আরও প্রায় ৫০ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। শুধু মামলার খরচ হিসেবেই ইতিমধ্যে আইনজীবীদের ফি বাবদ ৬.৩৭ কোটি টাকা এবং সালিসি ফি বাবদ ৬.৬৩ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। ২০১০ সালের দিল্লি কমনওয়েলথ গেমস নানা কারণে বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, পরিকাঠামোগত ত্রুটি এবং নির্মাণ বিলম্ব— সব মিলিয়ে সেই আয়োজন ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিল। প্রথমে যেখানে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৯৭ কোটি টাকা, শেষ পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮৫৩২ কোটি টাকায়। বিভিন্ন চুক্তি ও কেনাকাটায় অস্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে, এবং আয়োজক কমিটির প্রধান সুরেশ কালামাডির বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে।

এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বারবার বলা হলেও বাস্তব বলছে, সেই অতীত এখনও পুরোপুরি মুছে যায়নি। ২০৩০ সালের নতুন আয়োজনকে ঘিরে তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে— ভারত কি এবার সত্যিই অতীতের ভুল থেকে বেরিয়ে একটি স্বচ্ছ ও সফল ক্রীড়া আসর উপহার দিতে পারবে?