“আমার ভোটে জিতেই দিল্লি গিয়েছিল!”, মালতিপুরে ‘বিশ্বাসঘাতক’ মৌসমকে ধুয়ে দিলেন মমতা
শনিবার মালতিপুরের সভামঞ্চ থেকে দলত্যাগীদের কড়া বার্তা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘পলাতকদের মানুষ ক্ষমা করবেন না। ভোট যেন না পায়।’’
Truth of Bengal: মালদহের মালতিপুরে নির্বাচনী জনসভা থেকে নাম না করে কংগ্রেস প্রার্থী মৌসম বেনজির নুরকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিনের তৃণমূল সম্পর্ক চুকিয়ে মৌসমের কংগ্রেসে ‘ঘরওয়াপসি’ এবং বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। শনিবার মালতিপুরের সভামঞ্চ থেকে দলত্যাগীদের কড়া বার্তা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘পলাতকদের মানুষ ক্ষমা করবেন না। ভোট যেন না পায়।’’ মৌসমের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘ভোটের আগে তিনি অন্য দলে গিয়েছেন। তাতে আমার আপত্তি নেই। তবে এত সুযোগ পাওয়ার পরেও দলের বিরোধিতা ভোটের সময়!’’
মালদহ জেলায় তৃণমূলের সংগঠন মজবুত করতে মৌসম নুরকে রাজ্যসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত যে তাঁরই ছিল, তা এদিন মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, ‘‘নিজে জীবনে রাজ্যসভায় যেতে পারিনি। ওকে পাঠিয়েছিলাম। মালদহের কোনও প্রতিনিধি লোকসভায় ছিল না বলে আমরা এই জেলার প্রতিনিধিকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলাম। অনেক দিন ছিলেন।’’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও স্পষ্ট করে দেন যে, মৌসম সরাসরি মানুষের ভোটে জিতে সাংসদ হননি, বরং তৃণমূলের বিধায়কদের সমর্থন নিয়ে রাজ্যসভায় গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘উনি তো ভোটে লড়ে সাংসদ হতে পারেননি। বিধায়কদের ভোটে জিতেছিলেন। আমার ভোটও পেয়েছিলেন।’’
গনি খান চৌধুরীর ভাগ্নি মৌসম বেনজির নুর কিছুদিন আগেই তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে পুনরায় কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। কংগ্রেস তাঁকে মালতিপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করায় ওই এলাকায় লড়াই এখন ত্রিমুখী রূপ নিয়েছে। মালতিপুর একসময় কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, তাই নিজের হারানো জমি ফিরে পেতে মৌসম এখন জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছেন। তবে ভোটের মুখে নেত্রীর এই আক্রমণ এবং ‘পলাতক’ তকমা মৌসমের ভোটব্যাঙ্কে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।
এদিন মালতিপুরের পর মানিকচকেও সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মালদহের মাটি থেকে কংগ্রেস ও বিজেপি- উভয় পক্ষকেই বিঁধেছেন তিনি। মৌসম নুরের দলবদলকে রাজনৈতিক সুবিধাবাদ হিসেবে ব্যাখ্যা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাধারণ ভোটারদের কাছে আবেদন জানান, যাতে তাঁরা এই ধরণের ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র যোগ্য জবাব দেন। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলই বলে দেবে মালদহের মানুষ গনি খানের আবেগকে প্রাধান্য দেন নাকি তৃণমূল নেত্রীর উন্নয়ন ও আক্ষেপকে।






