ভোটের আগে ধুবুলিয়ায় অভিনব জনসংযোগ, অনুষ্ঠান বাড়ির বাসনেই চেনা যাচ্ছে দলের সমর্থক
স্থানীয়দের দাবি, এই এলাকায় প্রথম এই বাসন সিস্টেম চালু করেছিল বাম শরিক দল আরএসপি।
Truth Of Bengal: মাধব দেবনাথ, নদিয়া: বিধানসভা নির্বাচনের আগে জনসংযোগে নতুন মাত্রা যোগ করেছে নদিয়ার কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র। ভোটের মরশুমে যেখানে পোস্টার, ব্যানার, মাইকিং আর সভা-সমাবেশই প্রচারের মূল হাতিয়ার, সেখানে ধুবুলিয়া এলাকার চুপি পোঁতা গ্রামে দেখা গেল একেবারে অন্যরকম ছবি। এখানে রাজনৈতিক দলের সমর্থক চেনার মাধ্যম হয়ে উঠেছে অনুষ্ঠান বাড়ির বাসন।
গ্রামের একাধিক বাড়িতে বিয়ে, অন্নপ্রাশন বা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে রান্নাবান্নার জন্য দলীয় সূত্রে দেওয়া বাসন ব্যবহার করা হয়। আর সেই বাসনের গায়ে স্পষ্টভাবে লেখা থাকে কোন দল দিয়েছে সেই বাসন। কোথাও লাল কালি দিয়ে লেখা ‘আরএসপি’, আবার কোথাও সবুজ কালি দিয়ে লেখা ‘টিএমসি’। স্থানীয় সূত্রে খবর, বিজেপিও নেপথ্যে একই ধরনের বাসন দেওয়ার ব্যবস্থা চালু রেখেছে, যদিও তা প্রকাশ্যে ততটা চোখে পড়ছে না।
স্থানীয়দের দাবি, এই এলাকায় প্রথম এই বাসন সিস্টেম চালু করেছিল বাম শরিক দল আরএসপি। সেই সময় দলীয় কর্মীরা বাড়ি বাড়ি যোগাযোগ বাড়াতে বাসন দিয়ে সমর্থকদের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করত। কোনও পরিবার যদি দলের কাছ থেকে রান্নার বাসন নিত, তবে ধরে নেওয়া হত তারা ওই দলের সমর্থক। এতে বুথভিত্তিক সমর্থক চিহ্নিত করা যেমন সহজ হত, তেমনই ভোটের সময় স্ক্রুটিনি বা সংগঠন পরিচালনায় সুবিধা মিলত বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের। পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর সেই পথেই হাঁটতে শুরু করে। ধুবুলিয়া অঞ্চলে এখন তৃণমূলও বাসন দেওয়ার মাধ্যমে জনসংযোগ বাড়াচ্ছে। ফলে রান্নার কড়াই, পিতলের বাসন, বালতি, গামলা, ডেকচি—বিভিন্ন সামগ্রীর গায়ে লেখা দেখা যাচ্ছে দলের নাম।
দরজায় কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই ধুবুলিয়া এলাকায় বাসনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলির সক্রিয়তা নজরে পড়ছে। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, কোনও পরিবার আরএসপি-র কাছ থেকে বাসন নিলে স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেওয়া হয় তারা বাম সমর্থক। তৃণমূলের বাসন নিলে বোঝা যায় তারা তৃণমূল ঘনিষ্ঠ। এইভাবেই গ্রামে সমর্থক চেনার একটি ‘অঘোষিত চিহ্ন’ হয়ে উঠেছে বাসন। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের বাসন-ভিত্তিক জনসংযোগ একদিকে যেমন পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা, তেমনই ভোটের আগে সমর্থকদের মন বুঝে সংগঠন শক্ত করার কৌশলও।






