কেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু করেন? অভিষেকের মায়ের এক আবদারেই বদলে যায় মমতার ভাবনা
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আসলে রাজ্যের মা-বোনেদের জন্য তাঁর দেওয়া একটি উপহার।
Bangla Jago Desk: বুধবার মুর্শিদাবাদের বড়ঞার নির্বাচনী সভা থেকে রাজ্যের জনপ্রিয় প্রকল্প লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালুর নেপথ্য কাহিনি শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের উপযোগিতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, মূলত নোটবন্দির সময় সাধারণ মহিলাদের যে চরম আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়তে হয়েছিল, তা দেখেই তাঁর মাথায় এই প্রকল্পের ভাবনা এসেছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নোটবন্দির ফলে মা-বোনেদের তিল তিল করে জমানো পুঁজি যখন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, তখনই তিনি ঠিক করেছিলেন মহিলাদের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা করবেন।
নিজের পারিবারিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা তথা তাঁর জা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি অনুরোধ তাঁকে গভীরভাবে ভাবিয়েছিল। নোটবন্দির সময় লতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কাছে এসে ৫০০ টাকা ধার চেয়েছিলেন কারণ হাতের সমস্ত পুরনো টাকা অকেজো হয়ে গিয়েছিল এবং বাজার করার মতো নগদ অর্থ ছিল না। মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুধু তাঁর পরিবারের সদস্যই নন, বেঙ্গালুরুতে থাকা এক পরিচিত তরুণীর আত্মীয়ও তাঁর কাছে একশো টাকা সাহায্য চেয়েছিলেন। এই ছোট ছোট ঘটনাগুলোই তাঁকে বুঝিয়ে দিয়েছিল যে বিপদের সময় মহিলাদের নিজস্ব কিছু সঞ্চয় থাকা কতটা জরুরি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আসলে রাজ্যের মা-বোনেদের জন্য তাঁর দেওয়া একটি উপহার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে মহিলারা যাতে দুঃসময়ে কারও মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজের প্রয়োজনে খরচ করতে পারেন, সেটাই তাঁর লক্ষ্য ছিল। তিনি কেবল অন্যদের কথাই বলেননি, নিজের ব্যক্তিগত অভ্যাসের কথা উল্লেখ করে জানান যে তাঁর নিজেরও একটি মাটির ভাঁড় বা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার রয়েছে। সেখানে তিনি নিয়মিত পাঁচ-দশ টাকা করে জমিয়ে থাকেন এবং প্রতি বছর কালীপুজোর সময় সেই জমানো টাকা দিয়ে মায়ের জন্য কিছু উপাচার কেনেন।
বড়ঞার এই জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী নোটবন্দির তীব্র সমালোচনা করে দাবি করেন যে সেই সময় তিনি এর বিরোধিতা করেছিলেন কারণ তিনি জানতেন সাধারণ মানুষের ক্ষতি হবে। মা-বোনেদের হাত খালি হয়ে যাওয়ার সেই যন্ত্রণাই আজ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের রূপ নিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। সরকারি প্রকল্পের এই মানবিক দিকটি তুলে ধরে তিনি উপস্থিত মহিলাদের আশ্বস্ত করেন যে এই সহায়তা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।






