২০২৬-এর লক্ষ্যে নতুন রণকৌশল, ‘তফসিলির সংলাপ’ থেকে বিজেপিকে কড়া বার্তা দিলেন অভিষেক
তাঁর নিশানায় ছিল গেরুয়া শিবিরের ডবল ইঞ্জিন উন্নয়নের তত্ত্ব
Truth of Bengal: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জনসংযোগের এক নতুন কৌশল নিয়ে ময়দানে নেমেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার দলের তফসিলি জাতি, উপজাতি ও ওবিসি সেলের বিশেষ সম্মেলন ‘তফসিলির সংলাপ’-এ যোগ দিয়ে তিনি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ শানান। মূলত পরিসংখ্যানকে হাতিয়ার করে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে দলিত ও আদিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিষেক। তাঁর নিশানায় ছিল গেরুয়া শিবিরের ডবল ইঞ্জিন উন্নয়নের তত্ত্ব।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ২০২৩ সালের একটি রিপোর্ট উদ্ধৃত করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, দলিত ও তফসিলি জাতিভুক্ত মানুষের ওপর অত্যাচারের ঘটনায় দেশজুড়ে প্রথম স্থানে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। তালিকায় এর পরের দুটি স্থানেই রয়েছে রাজস্থান এবং মধ্যপ্রদেশ। এই পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে তিনি কটাক্ষ করেন যে, নারী ও দলিত নির্যাতনের নিরিখে স্বর্ণপদক পেয়েছে উত্তরপ্রদেশ, রুপো জিতেছে রাজস্থান এবং ব্রোঞ্জ পেয়েছে মধ্যপ্রদেশ। মজার বিষয় হলো, তিনটি রাজ্যেই ডবল ইঞ্জিন সরকার চলছে। আদিবাসীদের ওপর হওয়া হিংসার খতিয়ান তুলে ধরেও একই সুর শোনা যায় অভিষেকের গলায়। তিনি জানান, উপজাতিদের ওপর আক্রমণের ঘটনায় মণিপুর শীর্ষে রয়েছে, যার পরেই রয়েছে মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ডবল ইঞ্জিন সরকারের ব্যর্থতা প্রকট হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি পুরনো মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একদিকে আম্বেদকরের নাম নেওয়াকে যখন ফ্যাশন বলা হচ্ছে, তখন খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তথ্যই বলছে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষরা কতটা অসুরক্ষিত।
বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর নেতিবাচক পরিস্থিতির বিপরীতে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নমূলক মডেলকে তুলে ধরেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা। তিনি বিশেষভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন। অভিষেক জানান, এ রাজ্যে তফসিলি জাতি ও উপজাতির মা-বোনেরা বর্তমানে বর্ধিত হারে সরাসরি আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন। দলিত নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের এই সামাজিক সুরক্ষা মডেলই যে আগামী নির্বাচনে বড় অস্ত্র হতে চলেছে, তা তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তৃণমূলে নবজোয়ার বা দিদির সুরক্ষা কবচের আদলেই এবার তফসিলির সংলাপ কর্মসূচিকে জনসংযোগের নয়া হাতিয়ার করা হয়েছে। জেলাভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন করে নিবিড় প্রচারের যে নকশা তৃণমূল তৈরি করেছে, তার মাধ্যমেই আগামী বিধানসভা নির্বাচনের জমি শক্ত করতে চাইছে দল। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই নিচু স্তরের জনসংযোগ এবং সম্মেলনগুলি থেকেই আগামী নির্বাচনের প্রাথমিক প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ সেরে রাখতে চাইছে ঘাসফুল শিবির।






