রাজ্যের খবর

নেশায় মেতে পাণ্ডুয়ার শিক্ষক, ৩০০ বছরের ইতিহাস তাঁর সংগ্রহে

আমেরিকা, ইউরো, গুয়েতেমালা, নেপাল, ভুটান ,বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মায়ানমার সহ ভারতের মোঘল ও সুলতানি যুগের মুদ্রা রয়েছে তার কাছে।

রাকেশ চক্রবর্তী, হুগলি: বজ্রপাত থেকে মানুষের প্রাণ বাঁচাতে যিনি তালগাছ বসান, সেই শিক্ষক বিদেশি মুদ্রা সংগ্রহ করেন। পান্ডুয়ার রানাগড় উচ্চ বিদ্যালয়ের ভূগোলের শিক্ষক ভাস্কর মণ্ডল। তিনি নিজের পেশা সামলে নেশা পূরণ করছেন। নিজের ইচ্ছের জোরে ভারতের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের প্রায় শতাধিক পুরানো দিনের মুদ্রা সংগ্রহ করে ফেলেছেন ইতিমধ্যেই। ভবিষ্যতে তার ইচ্ছে সমস্ত দেশের মুদ্রা সংগ্রহ করা। শিক্ষকের সংগ্রহে যেমন রয়েছে ভারতীয় মুদ্রা তেমনই রয়েছে একাধিক দেশ-বিদেশের মুদ্রা। আমেরিকা, ইউরো, গুয়েতেমালা, নেপাল, ভুটান ,বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মায়ানমার সহ ভারতের মোঘল ও সুলতানি যুগের মুদ্রা রয়েছে তার কাছে (Pandua Teacher)।

এমনকি ব্রিটিশ আমলের বিভিন্ন সালের পয়সা ও স্বাধীনতার পরবর্তীতে ভারতীয় ১-২ ও ৩ পয়সা রয়েছে। শিক্ষকের সংগ্রহে রয়েছে ভারতীয় ৫ টাকার কয়েন ১০০ রকমের। ২ টাকার কয়েন ৩৫ রকমের। ১ টাকার কয়েন ৩৮ রকমের। ১০ টাকার কয়েন রয়েছে ৩০ রকমের। এছাড়াও প্রাচীন তামার মুদ্রা ও কড়ি রয়েছে। বিদেশি মুদ্রা রয়েছে ২০০ রকমের।বিদেশি নোট রয়েছে ২৭টা।

আদতে উত্তর ২৪ পরগনা সুন্দরবন এলাকার বাসিন্দা ভাস্কর। পেশার কারণে তিনি চলে আসেন পান্ডুয়ায় উত্তরায়ণে। সেখানেই তিনি বসবাস করেন। তার বাবা ছিলেন একজন গ্রামীণ চিকিৎসক। বাবার কাছে চিকিৎসা করাতে এসে অনেকেই খুচরো পয়সা দিত। ছোটবেলায় বাবার কাছে পয়সা নিয়ে তিনি সংগ্রহ করতেন তখন থেকেই তার পয়সা সংগ্রহের নেশা জন্মায়। তবে তিনি যখন সুন্দরবন এলাকায় থাকতেন তখন আয়লার সময় তার কিছু মুদ্রা নষ্ট হয়ে যায়। তবুও তিনি ভেঙে পড়েননি। ফের শুরু করেন মুদ্রা জমানো। তিনি নিজে যেমন সংগ্রহ করেন তেমনই তার অনেক ছাত্র বাইরে থাকেন, তারাও শিক্ষককে বিভিন্ন বিদেশি মুদ্রা দেন। এভাবেই সংগ্রহ করে ফেলেছেন একাধিক মুদ্রা। বর্তমানে তারকাছেআছে তিন হাজার রকমের মুদ্রা। ১৮১৮, ১৮৫৭ সালের ব্রিটিশ আমলের মুদ্রাও রয়েছে (Pandua Teacher)।

শিক্ষক ভাস্কর মন্ডল বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সবমুদ্রা আছে। সেইসঙ্গে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, গুয়েতেমালা, ইন্দোনেশিয়া ,বাংলাদেশ, ভুটান, সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, ইরানেরমুদ্রা রয়েছে। ভারতীয় অনেক প্রাচীন মুদ্রাও রয়েছে। তার সঙ্গে আধুনিক যে মুদ্রা সেগুলিও আমার কাছেআছে। এই মুদ্রা সংগ্রহ করা আমার একটা নেশা। আমার স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের দেখাই। সেই সময়কার মুদ্রা দেখতে কেমন ছিল? সুলতানি যুগের মুদ্রা কেমন ছিল? তার ইতিহাস কেমন ছিল? কেন অন্য ধাতু দিয়ে রূপান্তরিত করা হল? তার মূল্য কেন কমেছে? সেগুলি আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের দেখাই। বর্তমানে ভারতীয় ৫ টাকার কয়েনের ৭৫ থেকে ১০০ রকমের। ২০ রকমের ১ টাকা এবং ২৩ রকমের ২ টাকা রয়েছে।

এছাড়াও একাধিক রকমের মুদ্রা রয়েছে। রাম সীতা প্রাচীর মুদ্রা রয়েছে। সাধারণ মানুষও এই মুদ্রা দেখতে আসে। তারাও প্রাচীন মুদ্রা সম্পর্কে জানতে পারে। ১৮১৮, ১৮৫৭ সালের ব্রিটিশ আমলের মুদ্রাও রয়েছে। অনেকেই ৫ টাকার মুদ্রা হাতে আসার সঙ্গে সঙ্গে ফেরত দিয়ে দেয়।কিন্তু আমি বা আমার পরিবার সেগুলোকে দেখে সংগ্রহ করে রাখি। ২০-২৫ বছর ধরে মুদ্রা সংগ্রহ করছি (Pandua Teacher)।

প্রথমে অল্প অল্প সংগ্রহ করতাম এখন সেটা বেড়েছে। এখন আমার কাছে প্রায় তিন হাজার ভিন্ন ধরনের ভিন্ন সময়ের মুদ্রা রয়েছে। আমার ইচ্ছা রয়েছে আগামী দিনে আরও বেশি মুদ্রা সংগ্রহ করার, যাতে মানুষ আরও বেশি করে দেখতে পায়। এমনকী কোনও গবেষক ছাত্র, সরকার ও প্রতিষ্ঠান আমার কাছে সাহায্য চাইলে আমি নিশ্চয়ই করব।

শিক্ষকের মা নির্মলা মণ্ডল বলেন, ছেলে অনেক ছোটবেলা থেকেই পয়সা জমা তো। এটা আমারও ভাল লাগে। তার বাবার কাছে অনেকে চিকিৎসা করাতে এসে খুচরো পয়সা দিত, সেখান থেকে একটা ছোট কৌটোর মধ্যে জমিয়ে রাখত। এখনও সেই অভ্যাসই রয়েছে (Pandua Teacher)।