দেশ

দেশে প্রথম! বন্যপ্রাণী রক্ষার্থে লাল রঙে রঙিন হল দীর্ঘ ১২ কি.মি. রাস্তা

মহাসড়কে সরাসরি এভাবে লাল চিহ্ন বসানোর ঘটনা এই প্রথম।

Truth Of Bengal: মধ্য প্রদেশ দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম বাঘ সংরক্ষণ ক্ষেত্র ও অভয়ারণ্যের জন্য পরিচিত। বন্যপ্রাণীর জন্য নিরাপদ রাস্তার ক্ষেত্রেও রাজ্যের সুনাম রয়েছে। সেই ভাবনা থেকেই জবলপুর–ভোপাল জাতীয় সড়কে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এনএইচএআই)।

মহাসড়কের একটি অংশে বড় লাল রঙের চিহ্ন বসানো হয়েছে, যাতে চালকেরা বিশেষ সতর্ক হন এবং বন্যপ্রাণী চলাচলের সম্ভাব্য এলাকায় গতি কমান। মহাসড়কে সরাসরি এভাবে লাল চিহ্ন বসানোর ঘটনা এই প্রথম।

জবলপুর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নওরাদেহি স্যাংচুয়ারি–র মধ্য দিয়েই সড়কের বড় অংশটি চলে গেছে। বিপুল সংখ্যক বন্যপ্রাণীর বাস এই অঞ্চলে। প্রাণীদের সুরক্ষায় রাস্তার দুই পাশে ৮ ফুট উঁচু লোহার বেড়া লাগানো হলেও পাহাড়ি ও বাঁকানো কিছু অংশে এখনও প্রাণী রাস্তা পার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেই কারণেই নতুন সতর্কতার পথ বেছে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রায় ১২ কিলোমিটার জুড়ে তৈরি করা হয়েছে বড় লাল ‘টেবলটপ’ মার্কিং। এনএইচএআই–এর আধিকারিক অমৃতলাল সাহু জানান, “এটি এখনও চলমান কাজ, সামনে আরও বিস্তৃত করা হবে। সাধারণত সড়কে সাদা বা হলুদ রঙের চিহ্ন দেখা যায়। কিন্তু বিপদজনক অঞ্চল চিহ্নিত করতে প্রথমবার লাল রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। এই জায়গাগুলিতে চালকদের বিশেষভাবে গতি কমাতে হবে, কারণ এখানে বন্যপ্রাণী রাস্তা পার হতে পারে।”

এই এলাকায় হরিণ, শেয়াল, সাম্বার–সহ বাঘও দেখা যায়। বাঘের এলাকা সম্প্রসারিত হলে রাস্তার দিকেও চলে আসার সম্ভাবনা থাকে।

বন্যপ্রাণীর চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সড়কে তৈরি করা হয়েছে ২৫টি আন্ডারপাস। তবে পাহাড়ি বাঁক যুক্ত বিপদসঙ্কুল এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে প্রয়োজন হয়েছিল লাল চিহ্নের। সাহু জানান, “এই চিহ্ন দেখে গাড়ি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গতি কমাবে। এতে চালক যেমন নিরাপদ থাকবেন, তেমনই বন্যপ্রাণীদেরও দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।”

১২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়ক প্রকল্প সম্পূর্ণ হওয়ার কথা ২০২৫ সালে। সংরক্ষিত অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যাওয়া একাধিক মহাসড়কে এর আগেও করিডর তৈরি হলেও বন্যপ্রাণীর সুরক্ষায় এ ধরনের লাল চিহ্ন ব্যবহারের নজির এই প্রথম।

Related Articles