রাজ্যের খবর

CV Ananda Bose: অনুপ্রবেশ বিতর্ক তুঙ্গে! হাকিমপুর থেকে মুর্শিদাবাদ, ‘রিয়েলিটি চেক’-এ সিভি আনন্দ বোস

সীমান্তে নানা গোষ্ঠীর মানুষের জমায়েত, অনুপ্রবেশের অভিযোগ এবং এর জেরে রাজনৈতিক তরজা— একাধিক ইস্যুতে যখন রাজ্য উত্তাল, ঠিক সেই আবহেই রাজ্যপালের এই সফরকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

Truth of Bengal: রাজ্যে অনুপ্রবেশ নিয়ে চলা তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে সরাসরি সীমান্ত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ময়দানে নামলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সোমবার তিনি উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্ত পরিদর্শনে যান। সেখানে সীমান্ত-বাস্তবতার ওপর তিনি নিজের মূল্যায়ন করবেন। পরে রাতে কৃষ্ণনগরে থাকার পর মঙ্গলবার তিনি মুর্শিদাবাদ জেলার আরও কিছু সীমান্ত এলাকায় রওনা দেবেন। সীমান্তে নানা গোষ্ঠীর মানুষের জমায়েত, অনুপ্রবেশের অভিযোগ এবং এর জেরে রাজনৈতিক তরজা— একাধিক ইস্যুতে যখন রাজ্য উত্তাল, ঠিক সেই আবহেই রাজ্যপালের এই সফরকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। যাত্রার আগে সোমবার তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, “অনেক মানুষ সীমান্তে রয়েছে— এমন কথা শোনা গিয়েছে। এর থেকে নানা ধারণা, নানা ব্যাখ্যা তৈরি হতে পারে। তাই রিয়েলিটি চেক করতে নিজেই যাচ্ছি।”

রাজ্যপালের এই মন্তব্য রাজনৈতিক শিবিরে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিরোধী শিবির দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে রাজ্যের শাসক দলের মদতেই অনুপ্রবেশ বাড়ছে এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা শোচনীয়। অন্যদিকে রাজ্য সরকারের বক্তব্য, ইস্যুটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে। এই দুই পরস্পর-বিরোধী অবস্থানের মাঝে দাঁড়িয়ে রাজ্যপালের সরেজমিনে গিয়ে পরিস্থিতি দেখা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি SIR (Special Integrated Report) প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গও টানেন। সম্প্রতি রাজ্যে বিএলও (BLO)-দের উপর বাড়তি কাজের চাপ, অসুস্থতা এবং আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে রাজ্যপাল বলেন, “SIR অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। বিএলও-দের সমস্যা থাকলে নির্বাচন কমিশনকে জানানো উচিত। নিশ্চয়ই গুরুত্বের সঙ্গে সব বিবেচনা করবে কমিশন। শেষটা আশা করি ভালই হবে।”

রাজভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যপালের সূচিতে রয়েছে হাকিমপুরের সীমান্ত চৌকি পরিদর্শন, বিএসএফ ক্যাম্প পরিদর্শন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক। তিনি সীমান্তবাসীদের সমস্যাও জানতে চাইবেন বলে জানিয়েছেন। বিশেষ করে অনুপ্রবেশ, পাচার, চোরাচালান এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিষয়গুলি তিনি খতিয়ে দেখবেন। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন এবং বিএসএফ আগে থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। স্থানীয় মহলের একাংশ মনে করছে, রাজ্যপালের এই সফর কেন্দ্র ও রাজ্যের রাজনৈতিক সম্পর্কের গতিপ্রকৃতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। সীমান্ত অঞ্চলের বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, তাঁদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা এত বড় মাপের একজন প্রতিনিধি সরাসরি শুনলে হয়তো প্রশাসন বাস্তব সমস্যার দিকে দৃষ্টি দেবে এবং তাঁদের ক্ষোভ কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে।

Related Articles