৭ দিনব্যাপী রাম-সীতা বিবাহ উৎসব, প্রধানমন্ত্রীর হাতে ধ্বজারোহণ
মন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র জানিয়েছেন, ওই দিন দুপুর বারোটা থেকে সাড়ে বারোটা পর্যন্ত ‘অভিজিৎ মুহূর্ত’ থাকবে।
Truth Of Bengal: আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। আগামী ২৫ নভেম্বর অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ ধ্বজারোহণ অনুষ্ঠান। মন্দিরের ১৬১ ফুট উঁচু চূড়ায় স্থাপিত ৪২ ফুট দীর্ঘ বিশাল গেরুয়া রঙের পতাকা উত্তোলন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত।
ধ্বজারোহণের আগে সাত দিনব্যাপী চলবে রাম-সীতার বিবাহ উৎসব। মন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র জানিয়েছেন, ওই দিন দুপুর বারোটা থেকে সাড়ে বারোটা পর্যন্ত ‘অভিজিৎ মুহূর্ত’ থাকবে। হিন্দু ধর্মমতে, এই সময়ে রামের জন্ম হয়েছিল। তাই এই সময়কে নির্ধারণ করা হয়েছে পতাকা উত্তোলনের জন্য। প্রধানমন্ত্রী বোতাম টিপে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে মাত্র ১০ সেকেন্ডে পতাকাটি মন্দিরের চূড়ায় উড়তে শুরু করবেন।
উত্তোলিত পতাকার আকার ২২ ফুট লম্বা ও ১১ ফুট চওড়া। এটি আমেদাবাদের কারিগররা বিশেষ নাইলন প্যারাসুট কাপড় দিয়ে তৈরি করেছেন, যা রোদ, বৃষ্টি এবং তীব্র বাতাস সহ্য করতে সক্ষম। পতাকায় সূর্য, ‘ওম’ এবং কোভিডার গাছের প্রতীক থাকবে। হরিবংশ পুরাণ অনুযায়ী, অযোধ্যার সূর্য রাজবংশের পতাকায় এই প্রতীকগুলি থাকত।
ধ্বজারোহণের সময় বৈদিক মন্ত্রপাঠ এবং কাঁসর-ঘণ্টার শব্দ পরিবেশকে আরও বিশেষ করে তুলবে। অনুষ্ঠানটি প্রায় ৩ কিলোমিটার দূর থেকেও দেখা যাবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী ২৫ নভেম্বর সকাল ১১টায় অযোধ্যায় পৌঁছবেন। হনুমানগড়হি মন্দিরে পুজো করার পর তিন ঘণ্টার অযোধ্যা সফর শুরু হবে। এরপর তিনি রামলালা এবং রাম দরবার দর্শন ও আরতি করবেন।
অভিজিৎ মুহূর্তে ধ্বজারোহণের পর প্রধানমন্ত্রী সপ্ত মন্দির পারকোটা, শেষাবতার মন্দির ইত্যাদি ঘুরে দেখবেন। এছাড়াও মন্দিরে কর্মরত ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে পারেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন সচিন তেন্ডুলকর থেকে শুরু করে অমিতাভ বচ্চনদের মতো ভিআইপি অতিথিরা। সাধারণ ভক্তদের জন্য ২৫ নভেম্বর দর্শন বন্ধ থাকবে। তবে ২৬ নভেম্বর থেকে দর্শন ফিরে আসবে। নিরাপত্তার কারণে মোবাইল ফোন আনতে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
মন্দির নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পরে এবারই প্রথম রাম-সীতা বিবাহ উৎসব উদযাপিত হচ্ছে। ধ্বজারোহণের সাত দিন আগে থেকেই শুরু হবে উৎসব। নেপালসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৮ হাজার মানুষ অংশ নেবেন। তাঁদের থাকার জন্য তীর্থপুরে একটি বিশাল তাঁবু নগরী তৈরি করা হয়েছে। ভক্তদের জন্য প্রায় ৫০০ কেজি লাড্ডু প্রসাদ তৈরি হচ্ছে। অযোধ্যার ১২টি প্রধান মন্দির থেকে জমকালো শোভাযাত্রাও বের হবে।



