Kakdwip: কাকদ্বীপে মা কালীর মাথা কাটার ঘটনায় গ্রেফতার ১, অভিযুক্তের দাবি ‘নেশার ঘোরে কাণ্ড’
লোকেশ হালদার, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কাকদ্বীপ থানার উত্তর চন্দননগর এলাকায় মা কালীর মাথা কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে হারউড পয়েন্ট কোস্টাল থানার পুলিশ। ধৃতের নাম নারায়ণ হালদার, যিনি উত্তর চন্দননগরের নস্কর পাড়ার বাসিন্দা। পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও জানিয়েছেন, নেশাগ্রস্ত (মদ্যপ) অবস্থায় এই ব্যক্তিই মূর্তিটির মাথা ভেঙেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
বুধবার কালী ঠাকুরের মাথা কেটে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, শেষে মুণ্ডু কাটা কালী প্রতিমাটিকে একটি প্রিজম ভ্যানে (Preserved Van) তুলে নিয়ে যেতে বাধ্য হয় পুলিশ। এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত এলাকাবাসী রাস্তা অবরোধ করে এবং পুলিশের উপরে ইট-পাটকেল ছোড়ে। স্থানীয়দের দাবি ছিল, দোষীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। কেউ কেউ আবার ব্যঙ্গ করে বলেন, পুলিশ কালী ঠাকুরকেই গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে প্রিজম ভ্যানে তুলে, আর এ থেকেই মূলত গন্ডগোলের সূত্রপাত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে দেখে সুন্দরবন পুলিশ জেলার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ এবং একটি বিশেষ তদন্তকারী দল ঘটনার তদন্ত শুরু করে দ্রুত অভিযুক্তকে শনাক্ত করে। শেষ পর্যন্ত উত্তর চন্দননগরের বাসিন্দা নারায়ণ হালদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, জেরায় নারায়ণ হালদার স্বীকার করেছেন যে তিনি নেশার ঘোরে এই কাজটি করেছেন। পুলিশ সুপার স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিযুক্ত কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা নন এবং এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগ নেই। বুধবার রাস্তা অবরোধ এবং পুলিশের উপর ইট-পাটকেল ছোড়ার ঘটনায় যাদের আটক করা হয়েছিল, জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের প্রত্যেককে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।






