বিনা পয়সায় বাস-যাত্রা? প্রতিমাসে ২,৫০০ টাকা সহায়তা! ভোটের আগে বড় প্রতিশ্রুতি শুভেন্দুর
শুভেন্দু আরও বলেন, যেসব যুবক মাধ্যমিক পাশ করে চাকরি পাননি, তাঁদের জন্য বেকার ভাতা চালু করেছে মহারাষ্ট্র সরকার। সেই মডেল পশ্চিমবঙ্গেও প্রয়োগ করা হবে।
Truth Of Bengal: ভোটের মুখে রাজ্য রাজনীতিতে ফের আর্থিক প্রকল্প ঘিরে প্রতিশ্রুতির পাল্টাপাল্টি শুরু। রাজ্যজুড়ে চালু থাকা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের জবাবে এবার নতুন প্রতিশ্রুতি নিয়ে হাজির হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
জনসভায় শুভেন্দু বলেন, বিজেপি যদি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসে, তাহলে রাজ্যের মহিলারা প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন। পাশাপাশি, ৫০০ টাকায় রান্নার গ্যাস, সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য ফ্রি যাতায়াত ও ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, বিজেপি খুব শীঘ্রই ‘সংকল্প পত্র’ প্রকাশ করবে এবং তা নিয়ে দলের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি প্রচার চালাবেন। বিজেপির এই ‘সংকল্প পত্র’ হবে রাজ্যের জন্য বিশেষ রোডম্যাপ।
তৃণমূল কংগ্রেস এই প্রতিশ্রুতিকে কটাক্ষ করে বলেছে, এগুলি ভোটের আগে দেওয়া খয়রাতি প্রতিশ্রুতি। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল যা বলে, তা পালন করে। বিজেপি একাধিক রাজ্যে প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে অনেক কিছুই কার্যকর হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই বলেছিলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, গোটা বিশ্বেই অভিনব উদ্যোগ। এটা সারাজীবন চলবে। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, আয়ুষ্মানে কেন্দ্র ৬০ শতাংশ দিলেও, রাজ্যকে ৪০ শতাংশ দিতে হয়। অথচ স্বাস্থ্যসাথী সম্পূর্ণ রাজ্য সরকারের তত্ত্বাবধানে চলে।
রাজ্য রাজনীতিতে মহিলাকেন্দ্রিক প্রকল্পের গুরুত্ব উল্লেখ করে তৃণমূলের এক নেতা বলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা কন্যাশ্রীর মতো প্রকল্পের জন্যই মহিলারা তৃণমূলের পাশে থাকেন।
অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপি পরিচালিত সরকারের প্রকল্পের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন। তিনি দাবি করেন, ছত্তিশগড়, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র—বিভিন্ন রাজ্যে মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তার প্রকল্প চালু রয়েছে। সেগুলি সফলও হয়েছে।
শুভেন্দু আরও বলেন, যেসব যুবক মাধ্যমিক পাশ করে চাকরি পাননি, তাঁদের জন্য বেকার ভাতা চালু করেছে মহারাষ্ট্র সরকার। সেই মডেল পশ্চিমবঙ্গেও প্রয়োগ করা হবে।
এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, নারী ভোট এবং সামাজিক সুরক্ষাকে কেন্দ্র করেই এবারের নির্বাচনী প্রচার আবর্তিত হতে চলেছে। একদিকে সরকার ইতিমধ্যেই চালু প্রকল্পকে তুলে ধরছে, অন্যদিকে বিরোধীপক্ষ নতুন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছে।






