রাজ্যের খবর

মৃন্ময়ী থেকে চিন্ময়ী, কারিগরের হাতে প্রাণ পাচ্ছেন দেবী

যাঁরা দুহাত দিয়ে দশভূজাকে সাজিয়ে তোলেন তাঁরা এখন দুহাত ভরে রোজগার করছেন।

Truth Of Bengal: পুজো মানে আনন্দ-উল্লাস।সমাজের সব অংশের মানুষের কাছে বড় আবেগের। জাতি-ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে উত্সব মুখর হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ কেউ হাতছাড়া করতে চায় না। দুর্গোত্সবে শুধু আনন্দ-উল্লাসই নয়,আর্থিক লেনদেনও  জমজমাট হয়।যাঁরা দুহাত দিয়ে দশভূজাকে সাজিয়ে তোলেন তাঁরা এখন দুহাত ভরে রোজগার করছেন। পুজো নির্ভর অর্থনীতির প্রাণোচ্ছ্বল ছন্দ রোজগেরে সমাজকে  আনন্দে মাতোয়ারা করে। কারণ লক্ষ্মীলাভ বাড়লেই পুজোর আনন্দ উপভোগ আলাদা মাত্রা পায়।রাজ্য সরকারের পুজো অনুদান ও উত্সবকে নানাভাবে সাহায্য করার জন্য পুজো অর্থনীতির গতি বেড়েছে। হুগলির চুঁচুড়ায় পুজোর আগে শিল্পীদের ব্যস্ততা বেশ নজরকাড়া।শিল্পীদের  হাতে আর মাত্র কয়েকটি দিন। এর মধ্যেই মৃৎশিল্পীরা মৃন্ময়ী মা দুর্গাকে চিন্ময়ী রূপে সাজিয়ে তুলতে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন। ভুবনমোহিনী দেবীর  পরিবারের সদস্যদের সাজ তৈরিতে  তুমুল ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কোথাও শোলা কেটে ঐতিহ্যবাহী ‘ডাকের সাজ’, কোথাও আবার আট বাংলা বা জরির সাজ তৈরির কাজে মগ্ন শিল্পীরা।(Chuchura)

আরও পড়ুনঃ দক্ষিণদাড়ি ইয়ুথসে অ্যাসিড আক্রান্তদের কথা তুলে ধরছেন শিল্পী অনির্বাণ

পুজোর জন্য পোশাক-টেক্সটাইল শিল্প কয়েক হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করছে। বণিকসভার তরফে জানানো হয়েছে, গতবছর ৮০ হাজার কোটির বেশি ব্যবসা হয়েছিল পুজোকে ঘিরে। মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের জেরে এবার তা ১ লক্ষ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আয় বাড়বে ৪ কোটি ৮০ লক্ষের বেশি মানুষের। বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূম, মেদিনীপুর, নদিয়া থেকে শুরু করে উত্তরের জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারেও ঘরে বসে শিল্পীদের তৈরি করা গয়না-হস্তশিল্প পুজোর সময় বাজারে সাড়া ফেলে দেয়। বাড়তি রোজগার করেন স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও কুটির শিল্পের সঙ্গে যুক্ত দেড় কোটির বেশি শ্রমিক-নারী। চুঁচু়ড়ায়  পুজোর আগে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যেই মৃৎশিল্পীরা মৃন্ময়ী মা দুর্গাকে চিন্ময়ী রূপে সাজিয়ে তুলতে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন। চুঁচুড়ার (Chuchura) ২ নম্বর কাপাসডাঙ্গার পালবাড়িতে গেলে দেখা গেল, প্রায় ১২ জন শিল্পী একসঙ্গে বসে সূক্ষ্ম হাতে মা দুর্গা, লক্ষ্মী, কার্তিক ও গণেশের সাজ তৈরি করছেন। কেউ গড়ে তুলছেন দেবীর মুকুট, কেউ বানাচ্ছেন গহনা বা অন্যান্য অলঙ্কার।

লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/truthofbengal

বছরের অন্য সময়ে হাতে গোনা কয়েকজন কারিগর এই কাজ করেন, তবে পুজোর দু’তিন মাস আগে থেকেই অতিরিক্ত কারিগররা লাভের আশায় এখানে কাজ করতে ছুটে আসেন।সাজ তৈরির প্রক্রিয়াও একেবারে নিখুঁত। প্রথমে কাগজের বোর্ডে নকশা আঁকা হয়, তারপর দক্ষ হাতে তা কেটে আঠা দিয়ে বিভিন্ন রঙের অভ্র, জরির ফিতা ও চুমকি বসানো হয়। তৈরি হওয়া গহনাগুলি প্যাকেটজাত করে দোকানে পাঠানো হয়। পরে মৃৎশিল্পীরা প্রতিমার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাজ কিনে নিয়ে মণ্ডপে পৌঁছে দেন। পুজোর মুখে এই কারিগরদের শ্রম, দক্ষতা এবং নিষ্ঠা ছাড়া দুর্গাপূজার ঐশ্বর্যমণ্ডিত সাজ সম্ভব নয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও তাঁরা কাজ করে চলেছেন, যেন মা দুর্গার রূপ ফুটে ওঠে পূর্ণ সৌন্দর্যে।(Chuchura)