বাংলার অক্সফোর্ড বলা হতো ভাটপাড়াকে, কিন্তু কেন জানেন?
Bhatpara was called the Oxford of Bengal, but do you know why?
Truth Of Bengal: ভাটপাড়া পশ্চিমবঙ্গের একটি প্রাচীন শহর। তবে বর্তমানে এই শহরের নাম সামনে আসলে গোলাগুলি বন্দুকের কথায় মনে পড়ে। সামনে চোখে ভাসে সন্ত্রাস। ভাটপাড়ার মানেই অর্জুন সিং। রাজনৈতিক লড়াই। বিজেপির তৃণমূলের জয় শ্রীরাম বনাম জয় বাংলা। সাধারণ মানুষ এই নাম শুনলে প্রথমেই থমকে যান। তবে এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। শিক্ষাদিক্ষা সংস্কৃতি সব ক্ষেত্রে বাংলাকে পথ দেখিয়েছে এই শহর।
বাংলায় নতুন শিক্ষার প্রসার ঘটিয়েছে। সেই জন্যই তো একসময় ভাটপাড়াকে বলা হতো বাংলার অক্সফোর্ড। এমনকি সে যুগে নবদ্বীপকে পর্যন্ত টেক্কা দিয়েছিল বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রেও। সেই ভাটপাড়ার গায়ে এখন লাল রক্তের দাগ। বাঙালি মননে যা বেদনা দেয়। অনেক কি বলতে শোনা যায় ভাটপাড়া এখন আর বাঙ্গালীদের নেই।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী শহর। এটি কলকাতা শহরের নিকটবর্তী হওয়ায়, ঐতিহাসিকভাবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিচিত। ভাটপাড়া, বিশেষভাবে তার প্রাচীন টোল (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান) এবং পন্ডিতদের জন্মস্থান হিসেবে বিখ্যাত। একসময় এই অঞ্চলের শিক্ষা ও সংস্কৃতির মান অনেক উচ্চ ছিল এবং এখানকার শিক্ষাপ্রথা এবং সংস্কৃতি অনেকখানি কলকাতা শহরের প্রভাবিত করেছিল।
ভাটপাড়া – ইতিহাস ও ঐতিহ্য
ভাটপাড়া শহরটি একসময় অক্সফোর্ড নামে পরিচিত ছিল, কারণ এখানে বহু পন্ডিত এবং শিক্ষাবিদের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। এই অঞ্চলের প্রাচীন টোল বা শিক্ষাকেন্দ্র গুলি ছিল অত্যন্ত প্রসিদ্ধ, যেখানে বহু শিক্ষার্থী শাস্ত্রীয় বিদ্যা এবং অন্যান্য বিদ্যায় শিক্ষালাভ করতেন।
ভাটপাড়ার প্রাচীন টোলগুলোতে সংস্কৃত, তত্ত্ববিদ্যা, নাটক, নৃত্য, এবং গীত এর মতো বিদ্যাগুলির পাঠদান করা হতো। এই অঞ্চলটি একসময় ভারতীয় সংস্কৃতির এক কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত ছিল, যেখানে শিক্ষালাভের জন্য বহু ছাত্র এবং ছাত্রীরা আসতেন দূর দূরান্ত থেকে।
ভাটপাড়া ও তার পন্ডিতরা
ভাটপাড়া শহরটি বিভিন্ন পন্ডিতদের জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত। এখানে বহু মনীষী, দার্শনিক, সাহিত্যিক, শিক্ষক এবং সংস্কৃতজ্ঞ জন্মগ্রহণ করেছেন। এই শহরের শিক্ষা এবং সংস্কৃতি আজও তার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।
এখানে বিশ্ববিদ্যালয় ও পন্ডিতদের সংস্পর্শ অনেকে সাহিত্য, দর্শন এবং অন্যান্য শাস্ত্রীয় বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। ভাটপাড়া শহরের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা জানানো হতো এবং এটি কলকাতার পাশেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যাচর্চার কেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছিল।
ভাটপাড়া – শিক্ষা ও সংস্কৃতি
ভাটপাড়া একসময় একটি শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল, যেখানে শিক্ষার্থীরা প্রাচীন ভারতীয় শিক্ষার মূল ধারণাগুলি শিখত। এখানে শাস্ত্রীয় শিক্ষা, ধর্ম, দর্শন, সাহিত্যে পন্ডিতদের মেধা উন্নয়ন হত এবং অনেক জ্ঞানী মানুষ এই এলাকায় আসতেন শিক্ষালাভের জন্য।
এছাড়া, শহরের সাংস্কৃতিক জীবনও ছিল সমৃদ্ধ। এখানে নাটক, গান, নৃত্য, এবং কবিতার মতো সংস্কৃতির নানা শাখায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হত। গ্রামের বা শহরের লোকেরা ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানগুলির মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করতেন এবং সমাজের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতেন।
ভাটপাড়া – আধুনিক প্রেক্ষাপট
আজকের দিনে, ভাটপাড়া শহরটি আধুনিকতার সঙ্গে ঐতিহ্যের মিশ্রণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও শহরের শিক্ষার মান আগের মতো ঐতিহাসিক নয়, তবুও এটি এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে পরিচিত। এখানে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ভাটপাড়া একসময় অক্সফোর্ড নামে পরিচিত ছিল, যেখানে বহু পন্ডিত এবং শিক্ষাবিদদের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা। এখানে প্রাচীন টোল এবং শিক্ষাকেন্দ্রগুলি ভারতীয় সংস্কৃতির এক কেন্দ্রস্থল ছিল। আজও ভাটপাড়া তার ঐতিহ্য এবং শিক্ষা সংস্কৃতির জন্য শ্রদ্ধা ও সম্মান অর্জন করেছে। এটি একটি ঐতিহাসিক শহর যা শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং সভ্যতার পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত।
এই শহরের সঙ্গে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। আরো অনেক মনীষীর ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে শহরের সঙ্গে। ১৪৯৫-৯৬ খ্রিষ্টাব্দে রচিত বিপ্রদাস পিপিলাইয়ের ‘মনসাবিজয়’ কাব্যে এই স্থানের নাম ভাটপাড়া হিসাবেই উল্লিখিত হয়েছে। ১৭শ শতকের শেষের দিকে সিদ্ধপুরুষ নারায়ণ ঠাকুর ভাটপাড়া গ্রামে পাশ্চাত্য বৈদিক সমাজের প্রতিষ্ঠা করেন। নারায়ণ ঠাকুরের শিষ্য পরমানন্দ হালদার গঙ্গাতীরে ভাটপাড়ার জায়গাটি গুরুদেবকে দান করেন। গুরুদেব কান্যকুব্জ থেকে আসা পাশ্চাত্য বৈদিক ব্রাহ্মণ। তিনি ভাটপাড়ায় চলে আসেন, অতঃপর তাঁর পুত্র চন্দ্রশেখর ন্যায়বাচস্পতি ভাটপাড়ায় প্রথম টোল খোলেন।






