ওপার বাংলা

‘বাংলাদেশে ফের অন্ধকার নামছে’, বর্তমান শাসনব্যবস্থা নিয়ে বিস্ফোরক হাসিনা

শেখ হাসিনার অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলি প্রকাশ্যে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছে।

Truth of Bengal: বাংলাদেশ যাতে চরমপন্থা ও মৌলবাদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠতে না পারে—এই বার্তা বারবার দিতে শোনা গিয়েছে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। শপথ নিয়েও তিনি জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের কথা বলেছিলেন। কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই বাংলাদেশে চরমপন্থা ও মৌলবাদের বাড়বাড়ন্ত শুরু হয়েছে।

শেখ হাসিনার অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলি প্রকাশ্যে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছে। জঙ্গি কার্যক্রম ও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত দণ্ডপ্রাপ্ত অনেকেই সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি হয়ে সংসদে গিয়েছে। তাঁর দাবি, এর ফলে দেশে ফের ২০০১-’০৬ সালের মতো অন্ধকার সময় ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, জঙ্গিবাদের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যেও। তাঁর কথায়, জঙ্গিবাদের কালো থাবা সশস্ত্র বাহিনী-সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মাঝেও ছড়িয়ে পড়েছে। এটি দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় বিপদ।

হাসিনা দাবি করেন, জঙ্গিবাদ নির্মূলে যাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন, সেই গোয়েন্দা সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীর বহু সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বা মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্তরা মুক্তি পেয়ে প্রকাশ্যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, বিচার ব্যবস্থাকেও রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে দেশে ভয় ও নিষ্পেষণের সংস্কৃতি চালু করেছে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী। তাঁর দাবি, জঙ্গিবাদ যেমন মাথাচাড়া দিচ্ছে, তেমনই অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং একের পর এক সংকটে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

এছাড়া বাংলাদেশের সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়েও তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন শেখ হাসিনা। তাঁর অভিযোগ, সরকারের অদক্ষতা ও উদাসীনতার ফলে দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব ঘটেছে এবং তা মহামারীর আকার নিয়েছে। হাসিনার দাবি, আমরা দেশ থেকে হাম প্রায় নির্মূল করার পর্যায়ে ছিলাম। সব ঠিক থাকলে ২০২৬ সালেই বাংলাদেশকে হামমুক্ত দেশ হিসাবে ঘোষণা করতাম। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকার টিকা ক্রয়ের নতুন পদ্ধতি চালু করতে গিয়ে টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের ৬১টি জেলায় ৫০ হাজারের বেশি শিশু হামে আক্রান্ত, এবং ৬ শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর কথায়, প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। এটি কোনও দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি প্রশাসনিক অপরাধ। স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়েও শেখ হাসিনা বলেন, ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে আওয়ামি লিগ সরকার স্বাস্থ্যখাতে ৪১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল এবং টিকাদান কর্মসূচির জন্য অতিরিক্ত অর্থও রাখা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকার ইউনিসেফ ও হু-এর সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে নিয়মিত টিকা ক্রয় প্রক্রিয়া বাতিল করে দেয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, শুধু টিকাদান কর্মসূচি নয়, গোটা স্বাস্থ্যব্যবস্থাই ধ্বংস করা হয়েছে। এমনকি শিশুদের নিয়মিত ভিটামিন-এ ক্যাপসুলও দেওয়া হয়নি। একান্ত সাক্ষাৎকারে হাসিনা প্রশ্ন তুলেছেন, বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকার পরও কেন টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন ঘটানো হল? কেন হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসা সামগ্রীর অভাব তৈরি হয়েছে? বাজেটের হাজার হাজার কোটি টাকা কোথায় গেল? বর্তমান সরকার এই সংকটের তদন্ত না করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আওয়ামি লিগকে দোষারোপ করছে বলেও অভিযোগ তাঁর। শেখ হাসিনার বক্তব্য, মার্চ মাসে সংক্রমণ শুরু হওয়ার সময় যথাযথ পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হতো না। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে শেখ হাসিনার এই বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Related Articles