‘কথা রেখেছেন দিদি’, ঘাটাল মাষ্টার প্ল্যানের উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন দেব
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তির পথ খুলবে- এই আশাতেই বুক বাঁধছেন ঘাটালবাসী।

রাকেশ চক্রবর্তী, হুগলি: ঘাটালের ছেলে তিনি। ছোটবেলা থেকেই প্রতি বর্ষায় জলযন্ত্রণা তাঁর নিত্যসঙ্গী। ভোটের সময় একাধিক রাজনৈতিক দল প্রতিশ্রুতি দিলেও ভোট মিটে গেলেই সেই আশ্বাস আর হত না পূরণ। বছরের পর বছর সমস্যার সমাধান হয়নি। তবে অবশেষে ঘাটালবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে শুরু হল ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান। বুধবার সিঙ্গুরের সভামঞ্চ থেকে তারকা সাংসদ দেবকে পাশে নিয়ে ভারচুয়ালি এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় সাহায্য না মিললেও শুধুমাত্র রাজ্য সরকারের উদ্যোগে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তির পথ খুলবে—এই আশাতেই বুক বাঁধছেন ঘাটালবাসী।
বিশেষ এই দিনে স্বাভাবিকভাবেই আবেগপ্রবণ দেব। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ আজকে দিদি যে কাজটা করলেন, এটা কোনও সোজা ব্যাপার নয়। ঘাটালের বাসিন্দারা ভেবেছিলেন এমন কেউ আসবেন, যিনি আমাদের দুঃখ বুঝবেন। আমি প্রথমবার সাংসদ হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় বাংলায় কথা বলেছিলাম, ঘাটালের কথা বলেছিলাম। দিল্লিতে গিয়েছি, বৈঠক করেছি। কিন্তু আমাদের কথা কেউ রাখেনি। দিদি কথা দিয়েছিলেন ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান করবেন। বাজেটে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলেন। আজ তা বাস্তবায়ন করলেন। এতদিন কেউ কথা রাখেননি, যিনি কথা রেখেছেন তিনি আমাদের মুখ্যমন্ত্রী।‘
দেব আরও বলেন,যে সরকার ভোটের পরেও কথা রাখে, তারই তো ভোট পাওয়া উচিত। আমি ঘাটালের ছেলে। এই ফাইলটা প্রতিটা সরকার, প্রতিটা দফরের টেবিলে ছিল। কিন্তু কেউ কাজ করেনি। আমাদের সরকার ভোট নিয়ে চলে যায়নি। গত ১৫ বছর ধরে যে দল মানুষকে আগলে রেখেছে, তার তো জেতা উচিত। আজ আমার বলার দিন নয়, আজ আমার গর্বের দিন। দিদি এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাতজোড় করে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, শিলাবতী, কংসাবতী ও দ্বারকেশ্বর নদের শাখা নদী ঝুমির লীলাভূমি হিসেবেই পরিচিত ঘাটাল এলাকা। জমিদারি আমলে বন্যা ঠেকাতে সার্কিট বাঁধ তৈরি করা হলেও সেগুলির দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় বর্তমানে বাঁধগুলি ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। প্রতি বছর বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।অন্যদিকে, জোয়ারের সঙ্গে আসা পলি নদী উপচে পড়তে না পেরে নদীতেই জমে যায়। ফলে নদীর জলধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে প্রতি বছর বন্যার প্রকোপ আরও বাড়ে। এই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হিসেবেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের ভাবনা।রাজ্য সরকারের দাবি, কেন্দ্রের আর্থিক সহযোগিতা না পাওয়াতেই এতদিন এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। তবে সব বাধা কাটিয়ে অবশেষে রাজ্যের উদ্যোগেই ঘাটালের বহু বছরের দুর্দশা মোচনের পথে বড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। আর তাতেই উপকৃত হবেন ঘাটালবাসী।






